(বাঁ দিকে) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ভারতে ২ হাজার রুপির বেশি নির্দিষ্ট ইউপিআই ব্যবসায়িক লেনদেনে মাশুল আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেই কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার অভিযোগটি সরাসরি নাকচ করে বলেছে, ইউপিআই মাশুল নির্ধারণে কোনো বিদেশি প্রভাব নেই।
নতুন ব্যবস্থায় ১৫ অক্টোবর থেকে ২ হাজার রুপির বেশি নির্দিষ্ট ‘পার্সন-টু-মার্চেন্ট’ (P2M) ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) প্রযোজ্য হবে। ৭৫ হাজার রুপি বা তার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে এই মাশুল সর্বোচ্চ ৩০০ রুপিতে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে এই মাশুল গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়ার কথা নয়, এটি মার্চেন্ট বা ব্যবসায়ীর ওপর প্রযোজ্য হবে।
ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির (P2P) ইউপিআই লেনদেন আগের মতোই বিনামূল্যে থাকবে। ২ হাজার রুপি পর্যন্ত মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং নির্দিষ্ট ছোট ব্যবসায়ীদের লেনদেনও মাশুলমুক্ত থাকবে। কেন্দ্রের হিসাবে, প্রায় ৯৬ শতাংশ P2M লেনদেন নতুন মাশুলের আওতার বাইরে থাকবে।
বুধবার এক ভিডিওবার্তায় রাহুল গান্ধী নতুন মাশুল ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামনে নতি স্বীকারের অভিযোগ তুলে তিনি ইউপিআই মাশুল প্রত্যাহারের দাবি জানান।
রাহুলের অভিযোগ, ইউপিআইয়ের ওপর মাশুল আরোপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপানো হচ্ছে এবং এর ফলে বিপুল অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে যাবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান।
তবে রাহুলের এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখছে কেন্দ্র। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন MDR কোনো কর নয় এবং এই অর্থ সরকার বা NPCI সংগ্রহ করবে না। বরং অর্থটি ব্যাংক, পেমেন্ট অ্যাপ ও অন্যান্য পেমেন্ট-সিস্টেম অংশীদারদের মধ্যে বণ্টিত হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, ইউপিআই ব্যবস্থার অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও পরিচালন ব্যয় মেটাতে নতুন মূল্য কাঠামো করা হয়েছে। সরকার বলছে, সাধারণ ব্যবহারকারী এবং ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখা হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২ হাজার রুপির বেশি কিছু নির্দিষ্ট খাতে সাধারণ ০.৪ শতাংশ MDR-এর পরিবর্তে ৫ রুপি সমন্বিত মাশুল প্রযোজ্য হবে। বড় লেনদেনের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ মাশুলের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। সূত্রের বক্তব্য, দীর্ঘ আলোচনার পরই নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে নতুন মাশুল কাঠামো নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। আইনজীবী অঞ্জন দত্ত এই আবেদন করেছেন। এতে ১৪ সেপ্টেম্বরের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তি এবং ১৫ সেপ্টেম্বর ঘোষিত নতুন MDR কাঠামো চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
আবেদনকারীর অভিযোগ, পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা, স্বচ্ছতা ও জনপরামর্শ ছাড়াই এই মাশুল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। নতুন নিয়ম স্থগিত বা বাতিলের আবেদনও করা হয়েছে।
ফলে ইউপিআইয়ের নতুন মাশুল ব্যবস্থা এখন একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
তবে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট: ১৫ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট বড় ব্যবসায়িক ইউপিআই লেনদেনে MDR চালু হবে, কিন্তু সাধারণ ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেন এবং ২ হাজার রুপি পর্যন্ত অধিকাংশ মার্চেন্ট পেমেন্ট বিনামূল্যেই থাকবে।
সূত্র:আনন্দবাজার.কম