তৃণমূলের দুই পক্ষই চায় জোড়াফুল, প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করার সম্ভাবনা
পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই পক্ষ কোন প্রতীকে ভোটে লড়বে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষই ‘জোড়াফুল’ প্রতীক চেয়ে…
শেখ হাসিনা আগামী ১৪ ডিসেম্বর দেশে ফিরতে চান। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত বিজয় দিবস পালন করে থাকে। ১৯৭১-এর ওই দিনে ঢাকায় মিত্র বাহিনীর (মুক্তি বাহিনী ও ভারতীয় সেনা) কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী। দলীয় সূত্রের খবর, দেশ ও দলের ঐতিহাসিক অর্জনের দিনে তৃতীয় প্রত্যাবর্তন তথা দেশের মাটিতে পা রাখতে চান আওয়ামী লিগ সভাপতি।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল ঠিক ওই সময় বাংলাদেশে সাত দফায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারেক রহমানের সরকার। ওপারে ইউনিয়ন পরিষদ হল এপারের গ্রাম পঞ্চায়েত।
ইউনিয়ন পরিষদ হল সবচেয়ে নিচের স্তর। এর উপরে আছে উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ। স্থানীয় সরকারের ওই দুটি কাঠামোর নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এখনও হয়নি ঘোষণা করা হয়নি।
অন্যদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ৭ দফায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার মন্ত্রক এবং নির্বাচন কমিশন। এই সাত দফার ভোট গ্রহণ করা হবে নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত।
এদিকে দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনার জন্য শেখ হাসিনা আগামী শুক্রবার দিল্লিতে আওয়ামী লিগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে তলব করেছেন। পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য না হলেও বৈঠকে সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সহ বেশ কয়েকজনকে ওই বৈঠকে হাজির থাকতে বলেছেন শেখ হাসিনা। দলীয় সূত্রের খবর ওই বৈঠকে হাসিনা সহ আওয়ামী লিগ নেতাদের দেশে ফেরার সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে কথা হবে। আলোচনায় গুরুত্ব পাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নির্ঘণ্টও। বাংলাদেশে এই নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হয় না। ফলের আওয়ামী লিগ সমর্থকদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই। যদিও আইনের তোয়াক্কা না করে বিএনপি নেতারা বলছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লিগকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। তখনই শেখ হাসিনা দলকে জানিয়ে দিয়েছিলেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লিগ লড়াই করবে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ দলটি পাবে কিনা সে ব্যাপারে কেউই নিশ্চিত নয়।
এদিকে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সচিব আবুল ফজল মহম্মদ সানাউল্লাহ জানিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম দফার ভোট হবে ১২ নভেম্বর।
দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য দিন নির্ধারিত হচ্ছে ১৩ ডিসেম্বর। এখনও পর্যন্ত ঠিক আছে, ১৪ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন। ডিসেম্বর মাসেরই ৩০ তারিখ হবে তৃতীয় দফার ভোটগ্রহণ। অর্থাৎ শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের সময় বাংলাদেশ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে মেতে থাকবে এমনটাই ধরে নিচ্ছে রাজনৈতিক মহল।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবিঃ সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার নির্বাচনও নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করলেও ভোট গ্রহণের দিন তারিখ নির্ধারণ শেষ কথা বলে থাকে সরকার। গত সোমবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রকের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে যে নির্ঘণ্ট চূড়ান্ত হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে একমাত্র ডিসেম্বর মাসেই দু’দিন ভোট গ্রহণ করা হবে।
তৃতীয় দফার ভোট নেওয়া হবে ৩০ ডিসেম্বর। এরপর ১৭ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২২ এপ্রিল ও ২৭ মে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আওয়ামী লিগের পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের অনেকেই মনে করছেন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট তৈরিতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে আওয়ামী লিগসহ মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক লোকজন পথে নেমে প্রশাসনকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেবে, এমন আলোচনা চলছে সে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। মনে করা হচ্ছে ওই সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যবস্থা করে রাজনীতির ময়দানে কর্তৃত্ব বজায় রাখার পাল্টা কৌশল নিল বিএনপি সরকার। নির্বাচনকে সামনে রেখে তখন ময়দানে বিএনপি’র পাশাপাশি জামাইয়ে ইসলামী, এনসিপি-সহ আওয়ামী লিগ বিরোধী শক্তি ময়দানে থাকবে। অনেকেই মনে করছেন এমন পরিস্থিতিতে ওই সময় বাংলাদেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হিংসা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সূত্রঃ দ্য ওয়াল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au