তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ, ১৮ জনের মৃত্যু
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা অতীতের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। চরম…
মেলবোর্ন, ৭ জানুয়ারি- ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকির পর ইউরোপের শীর্ষ দেশগুলো প্রকাশ্যে দ্বীপটির পাশে দাঁড়িয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড কেবল সেখানকার জনগণের, এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারও তাদেরই। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন ও ডেনমার্কের নেতারা বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র তাদেরই রয়েছে। একই সঙ্গে ন্যাটোর কাঠামোর ভেতরে থেকে আর্কটিক অঞ্চলের সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
এর আগে ২০১৯ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে গ্রিনল্যান্ড কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবারও দ্বীপটি নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার অভিযোগ, দ্বীপটির সুরক্ষায় ডেনমার্ক পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেয়নি।
গত শনিবার ভেনেজুয়েলায় এক সামরিক অভিযানে দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ওয়াশিংটন একই ধরনের চাপ প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। যদিও গ্রিনল্যান্ডের নেতৃত্ব বারবারই বলে আসছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এই প্রসঙ্গে বলেন, ন্যাটোর কোনো সদস্য রাষ্ট্র আরেক সদস্যকে হুমকি দিতে বা আক্রমণ করতে পারে না। জোটের ভেতরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ন্যাটোর অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়বে। নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক শফও ইউরোপীয় নেতাদের এই অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
ইউরোপের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের মন্তব্য। আন্তর্জাতিক আইন ও ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি সিএনএনকে বলেন, বিশ্ব বাস্তবতায় শক্তি ও ক্ষমতাই শেষ কথা। তার দাবি, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে কেউ জড়াবে না। এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকায় রাঙানো গ্রিনল্যান্ডের মানচিত্র পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, “শিগগিরই।”
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন ইউরোপীয় দেশগুলোর সংহতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে, তবে তা অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ‘শ্রদ্ধাপূর্ণ সংলাপের’ আহ্বান জানান।
এদিকে ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে ডেনমার্ক ইতোমধ্যে আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বছর কোপেনহেগেন এ খাতে ৪২ বিলিয়ন ডেনিশ ক্রাউন, অর্থাৎ প্রায় ৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেয়।
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি কৌশলগত অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি দ্বীপটির বিপুল খনিজ সম্পদ চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে ট্রাম্পের বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট গ্রিনল্যান্ডকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবেই দেখতে চান, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকবে। তার মতে, জোরপূর্বক দ্বীপটি দখলের কোনো পরিকল্পনা ট্রাম্পের নেই।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au