মিয়ানমারে ভোট ঘিরে ছয় মাসে ৭০০ নাগরিক নিহত: জাতিসংঘ
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- মিয়ানমারে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ছয় মাসে অন্তত ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে…
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি, দায়িত্বে অবহেলা এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় মোবাইল অ্যাপ, জিও-লোকেশন এবং জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের হাজারো ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিসে প্রতিদিন সরাসরি তদারকি করা সম্ভব না হওয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ান উত্তোলন, রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং কাজের অযৌক্তিক বিলম্ব নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই।
এই পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রথম ধাপে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) নতুন ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাইলট প্রকল্প সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিসে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটালাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পারফরম্যান্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী জানান, সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মকর্তারা কর্মস্থলে উপস্থিত আছেন কি না, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন কি না এবং অফিস চলাকালে কোথায় অবস্থান করছেন, তা সহজেই যাচাই করা যাবে।
নতুন ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্মার্টফোনে একটি বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। অ্যাপটির মাধ্যমে তাদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংরক্ষিত হবে এবং একটি ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারণ করে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে কর্মকর্তারা অফিসে এসেছেন কি না, মাঠে দায়িত্ব পালনে গেছেন কি না এবং পরে অফিসে ফিরেছেন কি না, তার বিস্তারিত তথ্য রেকর্ড হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অ্যাপ চালুর আগে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নির্দেশিকা (ইউজার ম্যানুয়াল) তৈরি করা হবে। সেখানে তথ্য সংরক্ষণ, মনিটরিংয়ের সীমা, জবাবদিহি এবং গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। বর্তমানে সফটওয়্যার উন্নয়ন ও পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যেই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে সম্ভাব্য উদ্বেগের বিষয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবন পর্যবেক্ষণ করা নয়। বরং সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে জনগণকে সেবা দিচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। অফিস সময়ের মধ্যেই মনিটরিং সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে এবং অফিস সময়ের বাইরে ব্যক্তিগত চলাফেরা পর্যবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু হলে ভূমি অফিসে জবাবদিহি বাড়বে, দালালচক্রের প্রভাব কমবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au