জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি এএফডির ঐতিহাসিক জয়
জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে কট্টর ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে দলটি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট…
মেলবোর্ন, ৮ জানুয়ারি- বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। তার আইনজীবীদের দাবি, দুদকের আনা অভিযোগ মিথ্যা, মানহানিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যার ফলে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে টিউলিপের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিক বর্তমানে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন। প্রতিবেদনে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, দুদকের কর্মকাণ্ডকে চ্যালেঞ্জ জানাতে আন্তর্জাতিক আইনি বিকল্প খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের ১ ডিসেম্বর ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালত টিউলিপ সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় তার মা শেখ রেহানাকে সাত বছর এবং খালা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের রায়ের পরপরই টিউলিপ এই বিচারপ্রক্রিয়াকে ‘প্রহসন’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর লন্ডনে একটি ব্যয়বহুল ফ্ল্যাট পাওয়া নিয়ে বিতর্কের মুখে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের আর্থিক সেবা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন টিউলিপ সিদ্দিক। পরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থপাচারের অভিযোগে তার নাম জড়ানো হলে বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা হয়।
টিউলিপের পক্ষে আইনি সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ল ফার্ম স্টেফেনসন হারউড। প্রতিষ্ঠানটি দুদককে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগগুলোকে ‘অবৈধ প্রচার’ আখ্যা দিয়ে জানায়, মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার টিউলিপের রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুদক কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছাড়াই গণমাধ্যমে অভিযোগ ছড়িয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ন্যায্য বিচারনীতির পরিপন্থী।
আইনজীবীরা আরও বলেন, টিউলিপ সিদ্দিক রূপপুর প্রকল্পের কোনো চুক্তির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং সাত লাখ পাউন্ড মূল্যের ফ্ল্যাট পাওয়ার অভিযোগও সত্য নয়। যে ফ্ল্যাটটির কথা বলা হচ্ছে, সেটি তিনি ২০০৪ সালে উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন এবং তা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সম্পদ বিবরণীতে যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
অন্যদিকে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন দাবি করে আসছেন, কমিশনের কাছে থাকা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলাটি করা হয়েছে। তবে হিন্দুস্থান টাইমস জানায়, আদালতের রায়ের পর দুদকের একজন প্রসিকিউটর স্বীকার করেন যে অভিযোগগুলো মূলত শোনা কথার ভিত্তিতে আনা হয়েছিল এবং নির্দিষ্ট দলিল উপস্থাপন করা হয়নি।
মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় পাঁচ আইনজীবীও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে লেখা এক চিঠিতে বলেন, টিউলিপ সিদ্দিক ন্যূনতম আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি। বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
সব মিলিয়ে দুদকের মামলাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। টিউলিপ সিদ্দিক সত্যিই পাল্টা মামলা করলে, এই আইনি লড়াই কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরেও নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au