মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১৫ জানুয়ারি- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষণ রেখে বাকি ২৫০টি আসনে সমঝোতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১০টি দল। এই জোটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ২৫০ আসনের প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
ইসলামী আন্দোলনকে এই সমঝোতায় যুক্ত রাখার জন্য আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে। তিনি ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসেন জামায়াতসহ ১০ দলের শীর্ষ নেতারা। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কোন দল কোন আসনে প্রার্থী দেবে এবং কতটি আসন কার জন্য বরাদ্দ থাকবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মোহাম্মদ মুনতাসির আলি সাংবাদিকদের বলেন, রাত ৮টায় ২৫০ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৫০টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। তারা এই সমঝোতায় যুক্ত না হলে পরবর্তী সময়ে ওই আসনগুলোতেও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।
এর আগে দুপুরে বৈঠক চলাকালে বেরিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান সাংবাদিকদের জানান, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে আলোচনার দায়িত্ব মামুনুল হককে দেওয়া হয়েছে। তিনি চরমোনাই পীরের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন।
বৈঠক শেষে মামুনুল হক বলেন, ১০ দলের উপস্থিতিতে বৈঠক শেষ হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। রাতের সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইসলামী আন্দোলনকে সঙ্গে নিয়েই আসন ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে এবং জনগণের মধ্যেও এ নিয়ে প্রত্যাশা আছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ হবে বলে তারা আশাবাদী। সাময়িক মতভিন্নতা থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা কেটে যাবে এবং জোট অটুট রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ৩০০ আসনেই জোটের প্রার্থী থাকবে। আলাদা করে কোনো দলের প্রার্থী দেওয়া হবে না। সবাই মিলেই নির্বাচনে অংশ নেবে এবং একে অন্যকে সহযোগিতা করবে।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এই বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, বৈঠকের কথা তারা সকাল ১০টার দিকে জানতে পারেন। সে কারণে প্রস্তুতি নিয়ে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে জামায়াতের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলমান রয়েছে এবং এখনো আলোচনার দরজা বন্ধ হয়নি।
এদিকে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েন থাকলেও দুই পক্ষই এখনো আলাদা পথে যাওয়ার ঘোষণা দেয়নি। দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ও লেখালেখি থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হলেও সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর সময় এখনো আসেনি। বহুমাত্রিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং চূড়ান্ত অবস্থানে পৌঁছালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিকে জানানো হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au