জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি এএফডির ঐতিহাসিক জয়
জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে কট্টর ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে দলটি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট…
মেলবোর্ন ১৭ জানুয়ারি- ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক শিক্ষিকার বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া মা ও কিশোরী মেয়ের লাশ ঘিরে বেরিয়ে এসেছে শিউরে ওঠার মতো তথ্য। পারিবারিক ঋণ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ২৫ ডিসেম্বর মা রোকেয়া রহমান (৩২) ও তার মেয়ে জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) কে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ২১ দিন ধরে একই ফ্ল্যাটে লাশ লুকিয়ে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন অভিযুক্ত শিক্ষিকা মীম আক্তার (২৪) ও তার কিশোরী বোন নুসরাত জাহান (১৫)।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ ওই ফ্ল্যাট থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় শিক্ষিকা মীম আক্তার ও তার ছোট বোন নুসরাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে নবম শ্রেণিতে সদ্য ওঠা ফাতেমা প্রতিদিনের মতো প্রাইভেট পড়তে শিক্ষিকার বাসায় যায়। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও সে আর বাড়ি না ফেরায় তাকে খুঁজতে ওই বাসায় যান তার মা রোকেয়া রহমান। এরপর থেকে দুজনই নিখোঁজ ছিলেন।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, ঘটনার দিন প্রথমে ফাতেমাকে হত্যা করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় বাসায় আসা রোকেয়াকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ফাতেমার লাশ বাথরুমের ফলস ছাদের ভেতরে এবং রোকেয়ার লাশ একটি বক্স খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত অভিযুক্তরা ওই ফ্ল্যাটেই বসবাস করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষিকা মীম আক্তার একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নেন। ওই ঋণের জামিনদার ছিলেন ভিকটিম রোকেয়া রহমান। কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এনজিওর চাপ পড়ে রোকেয়ার ওপর। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন ফাতেমা বাসায় গেলে নুসরাতের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুসরাত গলা চেপে ফাতেমাকে হত্যা করে।
হত্যার পর সিসিটিভি ক্যামেরাকে ফাঁকি দিতে নুসরাত ফাতেমার জামাকাপড় পরে বাসা থেকে বের হয়, যাতে ফুটেজে দেখে মনে হয় ফাতেমা বাড়ি থেকে চলে গেছে। পরে সন্ধ্যায় রোকেয়াকে ফোন করে মেয়ের অসুস্থতার কথা বলে বাসায় ডেকে আনা হয়। বাসায় ঢুকতেই দুই বোন মিলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে।
লাশ লুকিয়ে রাখার পরও তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করে। এমনকি গত ৬ জানুয়ারি শিক্ষিকার তিন বছর বয়সী ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে পুরো পরিবার ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নানাবাড়িতে বেড়াতেও যায়। ১০ জানুয়ারি তারা আবার কেরানীগঞ্জের ওই ফ্ল্যাটে ফিরে আসে।
শিক্ষিকার স্বামী পেশায় রংয়ের ডিলার। তিনি ঘরে দুর্গন্ধ টের পেলে স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলে বাইরে কুকুর মরে থাকার কথা বলা হয়। দুর্গন্ধ বাড়তে থাকায় বৃহস্পতিবার তিনি নিজেই ঘর তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি কক্ষের খাটের নিচে লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিহত রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহমেদ জানান, ২৫ ডিসেম্বর স্ত্রী ও মেয়ের নিখোঁজের পর ২৭ ডিসেম্বর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ৬ জানুয়ারি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে পুরো ঘটনার বিবরণ থাকলেও পুলিশ লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি।
তিনি বলেন, পুলিশ যদি সময়মতো ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালাত বা সিসিটিভি ফুটেজ ও কললিস্ট বিশ্লেষণ করত, তাহলে এতদিন লাশ গুম করে রাখা সম্ভব হতো না। তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
ওসি সাইফুল আলম বলেন, গ্রেপ্তার দুজনই হত্যার কথা স্বীকার করেছে। শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। নাবালিকা হওয়ায় নুসরাত জাহানকে গাজীপুরের কোনাবাড়ি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au