স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে।। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৯ জানুয়ারি- স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়ায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় দু’টি দ্রুতগতির ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই প্রাণহানি ঘটে। দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে সব ধরনের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, প্রথমে ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও উদ্ধার ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম শেষে নিহতের সংখ্যা ৩৯ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্দালুসিয়ার জরুরি সেবা বিভাগ।
স্পেনের রেল নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ জানায়, রোববার সন্ধ্যায় মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী একটি দ্রুতগতির ট্রেন কর্দোবা প্রদেশের আদামুজ এলাকার কাছে হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়। লাইনচ্যুত হওয়ার পর ট্রেনটি পাশের আরেকটি রেললাইনে ঢুকে পড়ে। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি ট্রেনই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে বলেন, দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তার ভাষায়, সোজা রেললাইনে চলার সময় একটি ট্রেনের এভাবে লাইনচ্যুত হওয়া বিস্ময়কর। তিনি আরও জানান, ওই রেললাইনটি গত বছরের মে মাসে নতুন করে সংস্কার করা হয়েছিল। ফলে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এক বিবৃতিতে বলেন, দেশটি একটি গভীর শোকের রাত পার করছে। তিনি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
দুর্ঘটনাকবলিত মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী ট্রেনটি পরিচালনা করছিল বেসরকারি রেল কোম্পানি ইরিও। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই ট্রেনে প্রায় ৩০০ জন যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত রেল কোম্পানি রেনফে পরিচালিত মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী ট্রেনটিতে ছিলেন প্রায় ১০০ জন যাত্রী।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আদামুজের মেয়র রাফায়েল মোরেনো দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দৃশ্যটি ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, আহত যাত্রীদের আর্তচিৎকার এবং উদ্ধারকর্মীদের ব্যস্ততা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছিল।
ইতালির রাষ্ট্রায়ত্ত রেল কোম্পানি ফেরোভিয়ে দেল্লো স্তাতোর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনটি ছিল ফ্রেচিয়া ১০০০ মডেলের। এই ট্রেন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম।
স্পেনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরটিভিইর সাংবাদিক সালভাদোর জিমিনেস ওই দুর্ঘটনাকবলিত একটি ট্রেনে ছিলেন। তিনি বলেন, ধাক্কাটা ভূমিকম্পের মতো অনুভূত হয়েছিল। তার ভাষায়, তিনি প্রথম বগিতে ছিলেন এবং হঠাৎ করেই প্রচণ্ড ঝাঁকুনি অনুভব করেন, এরপর ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর তীব্র ঠান্ডার মধ্যে অনেক যাত্রীর সঙ্গে তাকেও বাসে করে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
এই দুর্ঘটনায় স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ ও রানি লেতিসিয়া গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে স্পেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত জোরদার করেছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।