আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু
মেলবোর্ন, ২১ জানুয়ারি- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ফরিদপুরের আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের আবেদন করেছেন। বুধবার তিনি সশরীরে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় হাজির হয়ে এ আবেদন দাখিল করেন। আবেদন জমা দেওয়ার পর তিনি ট্রাইব্যুনাল এলাকা ত্যাগ করেন।
তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় এদিন আত্মসমর্পণের আবেদনের ওপর কোনো শুনানি হয়নি। ফলে আবেদনের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আদেশও দেওয়া হয়নি।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে দেশে ফিরে নিজের সাজা স্থগিত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন বাচ্চু রাজাকার। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামী ২২ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের আবেদন করলেন।
ফরিদপুরের রাজাকার হিসেবে পরিচিত মাওলানা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। বিচার শুরুর পরই তিনি ভারত হয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। তার অনুপস্থিতিতেই ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি যুদ্ধাপরাধ মামলার প্রথম রায়ে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালে ফরিদপুর অঞ্চলে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, নয়জনকে অপহরণ, ১০ জনকে আটক রাখা, পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তার দেশে ফেরা ও আত্মসমর্পণের আবেদন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী শুনানি ও আদেশের দিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের।