বাংলাদেশে পানির লবণাক্ততা: নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস ও নদীপথে লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে উপকূলের বিস্তীর্ণ…
সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসায় সাত বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে প্রায় ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে বলাৎকার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মামলার এজাহারে মাদরাসার শিক্ষক ও কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিশুটিকে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের নির্যাতনের কারণে শিশুটি বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি তীব্র মানসিক ট্রমায় ভুগছে। এমনকি ঘুমের মধ্যেও আতঙ্কে চিৎকার করে সে বলে ওঠে, ‘আমার গলা ছেড়ে দাও।’
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তার সন্তানের চিকিৎসা ও মানসিক অবস্থার কথা জানিয়ে বলেন, ছেলের উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও আর্থিক সংকটের কারণে তিনি তা ঠিকমতো করাতে পারছেন না। এ ঘটনায় গত ২৬ আগস্ট মামলা করা হলেও মামলার এজাহারে নাম থাকা অভিযুক্তদের এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী শিশুটি সাভার পৌর এলাকার শাহীবাগ মহল্লার মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদরাসার মক্তব বিভাগের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আরবি শিক্ষা দেওয়ার জন্য শিশুটিকে ওই মাদরাসায় ভর্তি করেন তার বাবা। ভর্তির কিছুদিন পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মাদরাসার শিক্ষার্থী রাফি শিশুটিকে টয়লেটে একা পেয়ে বলাৎকার করেন। পরে বিষয়টি জানতে পারেন আরেক শিক্ষার্থী সায়েম। ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনিও শিশুটিকে টয়লেটের সামনে একা পেয়ে শারীরিক নির্যাতন ও বলাৎকার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি শিশুটির রুমের অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে জানাজানি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ১২ এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় আবু সাঈদ এবং ১৪ এপ্রিল দুপুরে মোহাম্মদ বিন মুক্তার শিশুটিকে বলাৎকার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর ২৫ এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত শিশুটিকে জোর করে টয়লেটে নিয়ে গিয়ে হাসান বিন মোস্তফা বলাৎকার করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে মাদরাসার মক্তব বিভাগের সহকারী শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেনও শিশুটির ওপর নির্যাতন করেন। ৪ জুলাই রাতে তিনি শিশুটিকে বলাৎকার করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় শিশুটিকে গলাটিপে মারধর করা হয় এবং বিষয়টি কাউকে জানালে মাদরাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ কামরুজ্জামান, ক্বারী রফিকুল ইসলাম ও জিয়া ইবনে কাসেম ঘটনাটি পরিবারের সদস্যসহ অন্য কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে মারধর ও বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাতেন।
মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন, হাফেজ সাব্বির, হাফেজ কামরুজ্জামান, ক্বারী রফিকুল ইসলাম ও জিয়া ইবনে কাসেম। এছাড়া মাদরাসার শিক্ষার্থী রাফি, সায়েম, আবু সাঈদ, মোহাম্মদ বিন মুক্তার ও হাসান বিন মোস্তফার নামও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বলেন, তিনি সাভারের একটি পোশাক কারখানায় স্টোর কিপার হিসেবে কাজ করেন এবং তার স্ত্রী গৃহিণী। ছেলেকে ধর্মীয় ও আরবি শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই মাদরাসায় ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু সেখানে প্রায় ছয় মাস ধরে তার ছেলে নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিশুটির বাবা আরও বলেন, ‘আমার ছেলের বায়ু পথে ক্ষত হয়েছে। নির্যাতনের কারণে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। প্রায় রাতেই ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে বলে, আমার গলা ছেড়ে দাও। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। ওর চিকিৎসা দরকার। কিন্তু আমি সামান্য বেতনের চাকরি করি। ছেলের চিকিৎসার খরচ চালানো আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।’
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসায় থাকা শিশুটি ভয় ও আতঙ্কের কারণে প্রথমদিকে বিষয়গুলো প্রকাশ করতে পারেনি। পরে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২৬ আগস্ট মামলা দায়ের করা হয়। তবে মামলা হওয়ার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে শিশুটির পরিবার একদিকে সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার মামলা করেছে। ঘটনার পর থেকে মামলার অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ ও মামলার এজাহারে যে ঘটনাগুলোর বর্ণনা রয়েছে, সেগুলো তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা এবং অভিযুক্তদের দায় আইনগত প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au