চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন ২২ জানুয়ারি- টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশের অবস্থান এখন এক গভীর অনিশ্চয়তা ও কূটনৈতিক চাপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। আইসিসি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপের সূচি ও ভেন্যুতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। এর অর্থ পরিষ্কার, বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপে অংশ নিতে চায়, তবে তাকে ভারতেই গিয়ে খেলতে হবে। এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিসিবিকে চূড়ান্ত মতামত দেওয়ার জন্য শুক্রবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে আইসিসি।
বিশ্বকাপ খেলতে চান ক্রিকেটাররা
ভারতে খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে ক্রিকেটারদের মন্তব্য জানার চেষ্টা করেছে ওটিএন বাংলা। তবে কয়েকজন ক্রিকেটার সরাসরি কিছু না জানালেও ভারতে হোক বা যেকোন যায়গায় হোক, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ না করুক সেটা তারা চান না।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্রিকেটারদের সাথে ঢাকার পাঁচতারকা হোটেলে বসবেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সেখানেই আসতে পারে সমাধান। কারণ বেশিভাগ ক্রিকেটারই চান বিশ্বকাপে অংশ নিতে।
এখনও আশা ছাড়ছেন না বুলবুল
কিন্তু বাস্তবতা যতই কঠিন হোক, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এখনো ভারতের বাইরে বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা পুরোপুরি ছাড়তে রাজি নন। আইসিসির বোর্ড সভা শেষে তিনি বলেন, তিনি এখনো ‘অলৌকিক কিছু’-র আশায় আছেন। তার ভাষায়, দেড় ঘণ্টার বৈঠকে বিসিবি তাদের সিদ্ধান্তের কারণগুলো বিস্তারিতভাবে আইসিসির সামনে তুলে ধরেছে। তবে বিষয়টি ভোটাভুটিতে নিতে তারা আগ্রহী ছিল না। তাই শেষ পর্যন্ত ভোটের আগেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।
বুলবুল জানান, তিনি আইসিসির কাছে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য সময় চেয়েছিলেন। সেই অনুরোধে একদিন বাড়তি সময় দিয়েছে আইসিসি। বিসিবির পক্ষ থেকে গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে গ্রুপ বদলের প্রস্তাব উঠলেও শ্রীলঙ্কা তাদের গ্রুপে নতুন কোনো দল নিতে রাজি হয়নি। ভোটের পর বুলবুল সরকারকে বিষয়টি জানানোর জন্য শেষ সুযোগ চান, যা আইসিসি যুক্তিসংগত বলে মনে করেছে।
নিরাপত্তাই বিসিবির প্রধান উদ্বেগ
বুলবুল স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি এখনো বিশ্বাস করেন ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। সে কারণেই তিনি সরকারকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য চাপ দেবেন না। খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ খেলতে চাইলেও সরকারকে কেবল খেলোয়াড়দের ইচ্ছা নয়, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। বিসিবির অবস্থান এখনো একটাই, সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন।
এই অবস্থানের বিপরীতে আইসিসি আরও কঠোর বার্তা দিয়েছে। বোর্ড সভায় জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি রেখেছে আইসিসি। এই বার্তা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা।
সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে গেলে আইনি পদক্ষেপ
একই সঙ্গে বিকল্প পথও খোলা রাখছে বিসিবি। আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে গেলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়টি ভাবছে বোর্ড। বুলবুলের আইসিসি–অভিজ্ঞতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০২৫ সালের মে মাসে বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে দীর্ঘদিন তিনি আইসিসিতে কাজ করেছেন। সেই সূত্রে বেশির ভাগ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। বিসিবি চাইছে, এই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে সমমনা পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর সমর্থন আদায় করতে।
এর মধ্যেই ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করেছে। তিনি বলেছেন, আইসিসি যদি অন্য কোনো বোর্ডের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে বাংলাদেশের ওপর অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দেয়, তাহলে বাংলাদেশ তা মানবে না। এই বক্তব্যে বোঝা যায়, বিষয়টি এখন আর শুধু ক্রিকেট বোর্ডের নয়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
খেলোয়াড়দের মধ্যেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। টি–টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস প্রকাশ্যেই বলেছেন, বিশ্বকাপে কোন ১৫ জন খেলবে, তা ঠিক থাকলেও তারা এখনো জানে না কোথায় গিয়ে খেলতে হবে বা কাদের বিপক্ষে খেলতে হবে। এই অনিশ্চয়তা পুরো দলকেই মানসিক চাপে ফেলছে।
আইসিসি অবশ্য তাদের অবস্থানে অনড়। তাদের দাবি, স্বতন্ত্র নিরাপত্তা বিশ্লেষণে বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো নির্দিষ্ট হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। টুর্নামেন্টের এত কাছে এসে সূচি বদলালে তা ভুল নজির সৃষ্টি করবে এবং সংস্থার নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাই পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপ আয়োজনেই তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিসিবির ভেতরেও হতাশা
বিসিবির ভেতরেও হতাশা স্পষ্ট। বোর্ডের একাধিক সূত্র বলছে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ না খেললে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, সে জন্য তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন। তবুও বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত সবাইকে চাপে ফেলেছে। পরিচালকরা প্রকাশ্যে মন্তব্য এড়িয়ে চলছেন। তাদের বেশির ভাগের বক্তব্য, চূড়ান্ত কথা বলবেন সভাপতি। তবে বোর্ডের ভেতরের একাংশ মনে করে, সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সবুজ সংকেত ছাড়া বিসিবির একার পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
এই পুরো পরিস্থিতি বিসিবিকে এক কঠিন দোটানায় ফেলে দিয়েছে। একদিকে আগের কঠোর অবস্থান ধরে রাখলে বিশ্বকাপ বর্জনের অভিযোগ আসতে পারে। এতে বড় অঙ্কের জরিমানা, নিষেধাজ্ঞা এবং ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে সরাসরি খেলার সুযোগ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে ভারতে গিয়ে খেলতে রাজি হলে বিসিবি ও সরকারের আগের অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে, যা রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে অস্বস্তিকর।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপে অংশ না নিলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে খেলোয়াড়দের। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে না খেলতে পারলে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। ক্রিকেট বোদ্ধাদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে পিছিয়ে দিতে পারে।
এখন সময় খুবই কম। আইসিসির দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। আবেগ, রাজনীতি ও ক্রিকেটীয় বাস্তবতার সংঘাতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট। বিসিবি কি শেষ পর্যন্ত শর্ত মেনে ভারতে দল পাঠাবে, নাকি নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে হাঁটবে সেই উত্তর মিলবে খুব শিগগিরই। দেশের কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর দৃষ্টি এখন একটাই জায়গায়, বিসিবির পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au