গেইলের ১৭৫ রানের রেকর্ড ভাঙতে চান সূর্যবংশী
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- ভারতের তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী জানিয়েছেন, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড ভাঙতে চান তিনি। কিংবদন্তি ওপেনার ক্রিস গেইল-এর…
মেলবোর্ন, ২৫ জানুয়ারি- ২০২৬ সালের একমাত্র পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, যা সাধারণভাবে ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত, দেখা যাবে মঙ্গলবার ৩ মার্চ। ভোরের আগে এই গ্রহণ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যবেক্ষণ করা যাবে, তবে পশ্চিম উত্তর আমেরিকা থেকে দৃশ্যটি হবে সবচেয়ে স্পষ্ট ও নাটকীয়। এই গ্রহণের পর ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর কোথাও আর কোনো পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে না, ফলে আকাশপ্রেমীদের কাছে এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চাঁদ পৃথিবীর কেন্দ্রীয় ছায়া বা আমব্রার ভেতরে অবস্থান করবে। এই সময়ে চাঁদের রং ধীরে ধীরে রূপ নেবে লালচে আভায়, যা ‘ব্লাড মুন’ নামের পেছনের মূল কারণ। গ্রহণটি তুলনামূলকভাবে অগভীর হলেও দৃশ্যমান রূপ হবে চোখে পড়ার মতো, বিশেষ করে পরিষ্কার আকাশ থাকলে। 
এই গ্রহণের পর ২০২৬, ২০২৭ ও ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত শুধু আংশিক ও পেনামব্রাল চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে, যেখানে পৃথিবীর ছায়া কেবল চাঁদের গা ঘেঁষে যাবে। পরবর্তী পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হবে ২০২৮-২৯ সালের নতুন বছরের রাতে, যা ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকার কিছু অংশ থেকে দেখা যাবে।
উত্তর আমেরিকায় ‘ব্লাড মুন’-এর নির্দিষ্ট সময় – ৩ মার্চ গ্রহণ শুরু হবে ০৮:৪৪ ইউটিসি (ইএসটি অনুযায়ী ভোর ৩:৪৪ মিনিটে)। পূর্ণতার সবচেয়ে নাটকীয় পর্যায় চলবে ১১:০৪ থেকে ১২:০২ ইউটিসি পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সময় অঞ্চলে পূর্ণতার সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো। চাঁদের ওপর পৃথিবীর ছায়া ধীরে ধীরে এগোতে দেখার জন্য অন্তত এক ঘণ্টা আগে বাইরে থাকা ভালো।
* পূর্বাঞ্চল: সকাল ৬:০৪–৭:০২ ইএসটি (পূর্ণতার সময় চাঁদ অস্ত যাবে)
* মধ্যাঞ্চল: সকাল ৫:০৪–৬:০২ সিএসটি
* পর্বত অঞ্চল: সকাল ৪:০৪–৫:০২ এমএসটি
* প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল: সকাল ৩:০৪–৪:০২ পিএসটি
* আলাস্কা: রাত ২:০৪–৩:০২ একেএসটি
* হাওয়াই: রাত ১:০৪–২:০২ এইচএসটি
পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ ঘটে যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান করে এবং তার ছায়া পুরোপুরি চাঁদকে ঢেকে ফেলে। সরাসরি সূর্যালোক পৌঁছাতে না পারায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল দিয়ে ছাঁকানো আলো চাঁদের পৃষ্ঠে প্রতিফলিত হয়। এতে নীল আলোর বেশিরভাগ অংশ ছড়িয়ে পড়ে, আর লাল তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো চাঁদে পৌঁছে তাকে লালচে রঙে রাঙিয়ে তোলে। এই দৃশ্য খালি চোখেই সম্পূর্ণ নিরাপদে উপভোগ করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এই পূর্ণতার সময় লালচে চাঁদ দেখার সুযোগ পাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিম মেক্সিকো ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু এলাকায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দেখার পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালো হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে পূর্ণতার সময় চাঁদ অস্ত যাওয়ার কারণে পশ্চিম দিগন্ত পরিষ্কার থাকা জরুরি।
এই গ্রহণ শেষ হলে আগামী কয়েক বছর শুধু আংশিক ও পেনামব্রাল চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে, যেখানে চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় প্রবেশ করবে না। ফলে ৩ মার্চের এই ‘ব্লাড মুন’ শুধু একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ বিরতির আগে শেষ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au