‘ভারতীয় বোর্ড আইসিসিকে নিয়ন্ত্রণ করে’
মেলবোর্ন,৬ মে- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সাইমন হারমার। তার দাবি, বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক…
মেলবোর্ন, ২৮ জানুয়ারি- একটি লম্বা, সোজা কাণ্ড। মাথায় মেলে ধরা হাতের তালুর মতো পাতা। বাতাসে দুলতে থাকা সেই পাতার কোণায় ঝুলে থাকা সূক্ষ্ম সুতোসদৃশ তন্তু- এই মিলনেই জন্ম নেয় এক অনন্য সৌন্দর্য। পামগাছের জগতে এই বৈশিষ্ট্য যাকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়, তার নাম ওয়াশিংটোনিয়া পাম।
সরল গঠনের মধ্যেও যে রাজকীয়তা লুকিয়ে থাকতে পারে, ওয়াশিংটোনিয়া তারই এক জীবন্ত উদাহরণ। প্রথম দেখায় একে অন্য পামগাছের মতো মনে হলেও, একটু গভীরভাবে তাকালেই ধরা পড়ে এর স্বাতন্ত্র্য- কাণ্ডের গঠন, পাতার তন্তু, আর অবাক করা সহনশীলতা।
নামের ভেতর ইতিহাস
ওয়াশিংটোনিয়া নামটি কোনো শহর বা রাজ্যের নয়। এর নামকরণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন- এর সম্মানে। একটি উদ্ভিদের নামের সঙ্গে রাষ্ট্রনায়কের নাম জড়িয়ে থাকা নিজেই এক ধরনের রাজকীয় পরিচয় বহন করে।
এই পামগাছের আদি নিবাস যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া এবং সোনোরা অঞ্চলের আধা-মরু এলাকায়। যেখানে দিনের প্রচণ্ড গরম আর রাতের তীব্র ঠান্ডা- দুটোকেই সমানভাবে মোকাবিলা করতে হয়।
দুই রূপে এক সৌন্দর্য
ওয়াশিংটোনিয়া পামের প্রধান দুটি প্রজাতি বেশি পরিচিত- Washingtonia filifera ও Washingtonia robusta।
ফিলিফেরা তুলনামূলকভাবে মোটা কাণ্ডের, উচ্চতায় সাধারণত ২০ মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে রোবাস্টা চিকন কাণ্ডে আকাশ ছোঁয়ার চেষ্টা করে- ৩০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
এই দুই প্রজাতির সংকর রূপও কোথাও কোথাও দেখা যায়, যা গাছপ্রেমীদের কাছে আলাদা কৌতূহলের জন্ম দেয়।
ঠান্ডা-গরমে অবিচল
ওয়াশিংটোনিয়া পামের সবচেয়ে বড় শক্তি এর সহনশীলতা। একবার ভালোভাবে শিকড় গেড়ে বসতে পারলে এই গাছে যত্ম না নিলেও বেঁচে থাকতে পারে অনেক দিন। বিশেষ করে Washingtonia filifera তুষারপাত পর্যন্ত সহ্য করতে পারে- মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও টিকে থাকার নজির আছে। তুলনামূলকভাবে রোবাস্টা কিছুটা সংবেদনশীল হলেও, উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়ায় এটি দারুণভাবে বেড়ে ওঠে।
সুতোয় বাঁধা পাতার রহস্য
ওয়াশিংটোনিয়া পামের পাতাই এর আসল পরিচয়। হাতের তালুর মতো বিস্তৃত এই পাতার কিনারায় দেখা যায় সূক্ষ্ম সুতোসদৃশ তন্তু। এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই এর নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে filifera—অর্থাৎ ‘সুতো বহনকারী’।
পাতার ডাঁটা লম্বা এবং ধারালো কাঁটাযুক্ত, যা সৌন্দর্যের পাশাপাশি সতর্কতার বার্তাও দেয়। পাতা ছাঁটাই করলে কাণ্ডের চারপাশে লালচে-বাদামি রঙের স্তর দেখা যায়, যা গাছটিকে আরো আলাদা চেহারা দেয়।
শুকনো পাতার নান্দনিকতা
এই পামগাছের শুকনো পাতাগুলো কাণ্ডের সঙ্গে ঝুলে থাকে, অনেকটা স্কার্টের মতো। অনেক জায়গায় এগুলো কেটে ফেলা হলেও, প্রকৃতিপ্রেমীরা মনে করেন- এই শুকনো পাতাই ওয়াশিংটোনিয়াকে দেয় তার স্বকীয় চরিত্র। সব সৌন্দর্য যে সবুজেই সীমাবদ্ধ, তা নয়।
ফুল, ফল আর নতুন জীবন
ওয়াশিংটোনিয়া পামের ফুল খুব উচ্চতায় ফোটে- কখনো কখনো মানুষের চোখের আড়ালেই। বসন্তের শেষ থেকে গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে ছোট, হালকা রঙের ফুলের থোকা দেখা যায়। পরে সেগুলো থেকে জন্ম নেয় ছোট ছোট বীজ, যেগুলোর চারপাশে থাকে হালকা মিষ্টি শাঁস- স্বাদে খানিকটা খেজুরের মতো।
এই বীজ খুব সহজেই অঙ্কুরিত হয়। তাই ফুটপাথের ফাঁক, দেয়ালের গোড়া বা অনাদৃত কোনো কোণেও গজিয়ে ওঠে ছোট ওয়াশিংটোনিয়া চারা- নীরবে জানান দেয় জীবনের দৃঢ়তা।
রাজকীয় নাম, সহজ জীবন
ওয়াশিংটোনিয়া পাম একদিকে রাজকীয় নাম ও সৌন্দর্যের প্রতীক, অন্যদিকে অবহেলাতেও টিকে থাকার শক্তির উদাহরণ। সুতোয় বাঁধা পাতার ফাঁকে ফাঁকে সে যেন বলে যায়- প্রকৃতির সৌন্দর্য সবসময় জাঁকজমকপূর্ণ নয়, অনেক সময় তা সরল, দৃঢ় আর চুপচাপ।
সূত্র: এল পাইস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au