মেলবোর্ন, ২৯ জানুয়ারি- পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দিতে আয়োজন চলছিল ঘটা করে। বরযাত্রীরা বাড়িতে পৌঁছেছেন, খাওয়া-দাওয়ার প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। ঠিক সেই সময়ই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনাটি। বিয়ের আসর ছেড়ে পালিয়ে থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন কনে নিজেই।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায়। কনের বাড়ি লৌহজং উপজেলায়। তিনি স্থানীয় একটি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং আইন অনুযায়ী এখনও অপ্রাপ্তবয়স্ক।
সিরাজদিখান থানা পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জের এক যুবকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে ওই শিক্ষার্থীর বিয়ে ঠিক করা হয়। বুধবার দুপুরে বরযাত্রীরা কনের বাড়িতে পৌঁছে আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। তবে বিয়েতে অনিচ্ছুক কনে আগেই বাড়ি ছেড়ে সিরাজদিখান থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন।
খবর পেয়ে পুলিশ কনের অভিভাবকদের থানায় ডেকে নেয়। সেখানে মেয়েটির ইচ্ছার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়। পুলিশ স্পষ্টভাবে অভিভাবকদের জানায়, কনের সম্মতি ছাড়া এবং বাল্যবিবাহের মাধ্যমে কোনো বিয়ে আইনসম্মত নয়। পরে কনেকে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ হান্নান বলেন, মেয়েটির মতামত উপেক্ষা করে জোরপূর্বক বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। বাল্যবিবাহ ও অনিচ্ছাকৃত বিয়ে ঠেকাতেই সে থানায় আশ্রয় নেয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার পর অভিভাবকদের বোঝানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিয়েটি বাতিল করা হয়।
কনের মা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মেয়ে রাজি না থাকায় বিয়েটা আর হয়নি। সে এখন বাড়িতেই আছে।
থানার এএসআই কামরুল ইসলাম জানান, কনের ভাষ্যমতে পরিবারের চাপে অনিচ্ছাসত্ত্বেও বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছিল। নির্ধারিত পাত্রকে তিনি পছন্দ করেন না এবং নিজের বিয়ের বয়সও আইন অনুযায়ী পূর্ণ হয়নি বলেই পুলিশের সহায়তা চান তিনি।
শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহটি ভেঙে যায়। ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং কনের সাহসী সিদ্ধান্তকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন।