যুদ্ধের নিয়ম বদলে গেছে: ইরানি অধ্যাপক
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও ইরানি জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে তেহরানের পক্ষ থেকে আরও বড় ধরনের পাল্টা জবাব আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের অধ্যাপক মোস্তাফা খোশচেশম।…
মেলবোর্ন, ১ ফেব্রুয়ারি- খসড়া জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশকে জনপ্রত্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বিদায়ী পরিহাস’ হিসেবে অভিহিত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার পর সরকারের মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে যে খসড়া দুটি প্রকাশ করা হয়েছে, তা গণমাধ্যম সংস্কারের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ১০ মাসেরও বেশি সময় ধরে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। অথচ মেয়াদের শেষ মুহূর্তে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ নামে দুটি খসড়া প্রকাশ করে মাত্র তিন দিনের মধ্যে মতামত চাওয়া হয়েছে, যা গভীর হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জনপ্রত্যাশা ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ উপেক্ষা করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই খাতের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। টিআইবির মতে, এটি শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাসই নয়, বরং শুরু থেকে সরকারের গোপনীয়তার চর্চা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের নামে একাংশের সংস্কারবিরোধী তৎপরতারও প্রতিফলন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত কমিশনগুলোর গঠন, কমিশনারদের পদমর্যাদা ও কার্যক্ষমতা, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই সরকারি, বিশেষ করে আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ব সুস্পষ্ট। এতে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার ব্যবস্থার বিকাশের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, সহিংসতা এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার নানা অপচেষ্টা নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এসব প্রবণতাকে উৎসাহিত করার অভিযোগও রয়েছে। মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে খসড়া অধ্যাদেশ দুটি সেই একই মনোভাবের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর অনেকেই মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার ব্যবস্থার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারণায় এ খাত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে টিআইবির পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে, নতুন সংসদ গঠনের পর রাজনৈতিক দলগুলো যেন নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় একটি সত্যিকার অর্থে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও অভিন্ন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে উদ্যোগ নেয়। টিআইবির মতে, এমন একটি কমিশনই দেশে পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au