চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৩ ফেব্রুয়ারি: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ARTICLE 19 বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের হঠাৎ করে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন এবং সম্প্রচার কমিশন গঠনের লক্ষ্যে খসড়া অধ্যাদেশ প্রকাশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মতে, মাত্র তিন দিনের মধ্যে জনমত দেওয়ার সুযোগ রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও যথাযথ প্রক্রিয়ার নীতির পরিপন্থী এবং বাংলাদেশের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
ARTICLE 19 বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে এমন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ উত্থাপন করা সন্দেহজনক এবং এতে গণতান্ত্রিক বৈধতার ঘাটতি স্পষ্ট। প্রস্তাবিত জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী কমিশনের কাঠামো, কমিশনারদের দায়িত্ব, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আমলাতান্ত্রিক প্রভাব প্রবল হবে। এতে কমিশনটি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকিতে পড়বে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও নির্বাহী নিয়ন্ত্রণমুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক।
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, খসড়া অধ্যাদেশে ‘সাংবাদিক’ সংজ্ঞা থেকে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ আইনি সুরক্ষা, স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে, যা ইতোমধ্যে নাজুক হয়ে পড়া গণমাধ্যম পরিবেশকে আরও দুর্বল করতে পারে।
প্রস্তাবিত সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশেও একই ধরনের ত্রুটি রয়েছে বলে জানিয়েছে ARTICLE 19। সেখানে বহুত্ববাদ ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতা রক্ষার বদলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণকে আরও কেন্দ্রীভূত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ARTICLE 19 বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছে, বাংলাদেশ মিডিয়া সংস্কার কমিশন ২০২৫ সালের ২২ মার্চ তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রায় এক বছর পর এই অধ্যাদেশগুলোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের সুপারিশ থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি সংস্কার কমিশনের সদস্যরাও প্রকাশ্যে তাদের হতাশা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তার পর হঠাৎ তড়িঘড়ি পদক্ষেপ সরকারের উদ্দেশ্য ও বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশে নতুন নির্বাচিত সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে ARTICLE 19 অন্তর্বর্তী সরকারকে অবিলম্বে এই অধ্যাদেশ প্রণয়নের প্রক্রিয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে এবং বলেছে, এ ধরনের সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নতুন গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।
সংস্থাটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কয়েকটি স্পষ্ট দাবি জানিয়েছে—খসড়া অধ্যাদেশ কার্যকর করার উদ্যোগ বন্ধ করা, সাংবাদিক, সম্পাদক, নাগরিক সমাজ ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতের যেকোনো গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নির্বাহী নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও পূর্ণ স্বাধীন রাখা, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের আইনি স্বীকৃতি ও সমান সুরক্ষা দেওয়া, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সব সংস্কার সামঞ্জস্য করা এবং নির্বাচনী সময়ে সব সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা।
ARTICLE 19 জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের পাশে রয়েছে এবং গণমাধ্যমসংক্রান্ত সব সংস্কারে স্বচ্ছতা, স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান বজায় রাখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
Source: ARTICLE 19
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au