চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৫ ফেব্রুয়ারি- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথ গ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার সাংবিধানিক সমাধান স্পষ্ট বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, বিদায়ি সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারবেন। এতে কোনো সাংবিধানিক জটিলতা নেই।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদায়ি সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করলেও নতুন স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাংবিধানিকভাবে শপথ পড়ানোর ক্ষমতা রাখেন। একইভাবে কারাগারে আটক থাকা বিদায়ি ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুও সরকারের সিদ্ধান্তে জামিন বা প্যারোলে মুক্তি পেলে এ দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
তবে সরকার চাইলে এই পথগুলো এড়িয়ে সংবিধানের ১৪৮(১) অনুচ্ছেদের ২(ক) দফা অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তিকে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব দিতে পারে। সে ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে আদেশ জারি করতে হবে। আর যদি এসব ব্যবস্থার কোনোটি কার্যকর না হয়, তাহলে শেষ বিকল্প হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনের আগে বিদায়ি স্পিকার, তার অনুপস্থিতিতে বিদায়ি ডেপুটি স্পিকার এবং উভয় পদ শূন্য থাকলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির সামনে সংসদ-সদস্যরা শপথ নেবেন। এই বিধানই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, বিদায়ি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন, তবে সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির আদেশ প্রয়োজন হবে। তার মতে, সংবিধানে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকায় বিতর্কের সুযোগ নেই।
এদিকে সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথ পড়ানো সংক্রান্ত একাধিক বিকল্প প্রস্তাব আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের আগস্টে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়। এই সরকারের অধীনেই ১৭ মাস পর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকরা নির্বাচনে না থাকায় বিএনপি ও জামায়াত এবারের ভোটে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথ সম্পন্ন করতে হয়। সেই সময়সীমা সামনে রেখে কে শপথ পড়াবেন এবং কার সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধির আলোকে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কোনো আইনগত সংকট নেই।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au