চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৫ ফেব্রুয়ারি- মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শুল্কসংক্রান্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে চুক্তির শর্তাবলি সম্পূর্ণ গোপন রাখার সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন সামনে রেখে অনির্বাচিত সরকারের এমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করার উদ্যোগে দেশের ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত বিষয় জনসমক্ষে না আসায় বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন। কারণ বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রমুখী রপ্তানির ৯০ শতাংশের বেশি আসে পোশাক ও বস্ত্র খাত থেকে। এমন এক সময়ে এই চুক্তি করা হচ্ছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত উচ্চ শুল্কে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত ইতোমধ্যেই চাপের মুখে রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র যখন ভারতের সঙ্গে একটি প্রকাশ্য বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে, তখন প্রতিবেশী বাংলাদেশে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। ঢাকার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি এই চুক্তি স্বাক্ষরের আইনগত বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তার মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রথম সারির দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলো জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ইউনূস সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট বা গোপনীয়তা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার ফলে উভয় পক্ষই শুল্ক আলোচনা ও চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয় প্রকাশে বাধ্য নয়। ফলে কী শর্তে, কোন খাতে কী ছাড় বা বাধ্যবাধকতা আসছে, সে বিষয়ে কেউই জানে না।
এই গোপনীয়তা ও তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের বিষয়টি শুধু বাণিজ্য চুক্তিতেই সীমাবদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও চিন্তাবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে একটি বন্দর ইজারা দেওয়া, অস্ত্র আমদানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অধীনতামূলক চুক্তি স্বাক্ষরের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ, অযৌক্তিক এবং অনিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়।

আনু মুহাম্মদের অভিযোগ, ইউনূস সরকারের ভেতরে বিদেশি লবিস্টদের উপদেষ্টা হিসেবে বসানো হয়েছে এবং তারা মরিয়া হয়ে এসব চুক্তি বাস্তবায়নে চাপ দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই চুক্তি আসলে কার স্বার্থ রক্ষা করবে।
এই বিতর্কের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রহসনের নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে, যার উদ্দেশ্য বিদেশি স্বার্থরক্ষাকারী একটি দুর্বল সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি অভিযোগ করেন, ইউনূস সরকার পুরোপুরি অস্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ইসলামপন্থী শক্তির সমর্থন পাচ্ছে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের ভোট নয়, একই সঙ্গে ‘জুলাই চার্টার’ অনুমোদনের বিষয়েও ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। এই চার্টারটি ব্যক্তিগতভাবে ইউনূস ও তার সরকার এগিয়ে নিচ্ছে। ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর তৈরি এই নথির মাধ্যমে সংবিধানে সংশোধন এনে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সমালোচকরা মনে করছেন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত বিষয় জনসমক্ষে না আসায় বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
কেন এই চুক্তি নিয়ে এত প্রশ্ন
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র যখন ১০০ দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়, তখন বাংলাদেশের জন্য শুল্ক নির্ধারণ করা হয় ৩৭ শতাংশ। পরে আলোচনা চলতে থাকে। জুলাইয়ে এই হার ৩৫ শতাংশে নামানো হয় এবং আগস্টে তা চূড়ান্তভাবে ২০ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সম্প্রতি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ দিয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই রপ্তানিকারকদের মধ্যে শঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইনামুল হক খান বলেন, এই চুক্তির বিষয়ে কোনো ধরনের পরামর্শ না নেওয়াটা সবচেয়ে উদ্বেগজনক। তার মতে, নির্বাচন শেষে একটি নির্বাচিত সরকার এসে এই চুক্তি করলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা সম্ভব হতো।
একই মত প্রকাশ করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশিষ্ট ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এই চুক্তি স্বাক্ষর করে কি নতুন সরকারের হাত বাঁধা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন উঠছে।
পোশাক খাত কেন সবচেয়ে বেশি শঙ্কিত
বর্তমানে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে বছরে প্রায় ৭ থেকে ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক ও বস্ত্র রপ্তানি করে। এর মধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশই তৈরি পোশাক। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮১ থেকে ৮৪ শতাংশ আসে এই খাত থেকে, যা জিডিপির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
এই খাতে সরাসরি ৪০ থেকে ৫০ লাখ মানুষ কাজ করেন, যাদের অর্ধেকের বেশি নারী। ফলে শুল্ক নীতি বা বাণিজ্য চুক্তিতে সামান্য নেতিবাচক পরিবর্তনও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এ অবস্থায় ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো, ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির গোপনীয়তা সব মিলিয়ে দেশের রপ্তানিকারকরা গভীর অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই গোপন বাণিজ্য চুক্তিকে অনেকেই একটি অগণতান্ত্রিক সরকারের শেষ মুহূর্তের বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, যার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তির ওপর। এ কারণেই চুক্তিটি এখন শিল্পপতি, রপ্তানিকারক এবং অর্থনীতিবিদদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au