বাংলাদেশে নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন একজন নারী। ফাইল ছবি
‘বিগত ১৭ বছর কেউ ভোট দিতে পারেনি’ কিংবা ’১৭ বছর ভোট দিতে পারেনি তাই এই বছর ভোট দিতে সকলেই উত্সবমুখর’ এইসব কথা বুঝে না বুঝে বারবার বলে একটা ইতিহাস বানানোর চেষ্টা হচ্ছে। গত ১৭ বছরে কি আওয়ামী লীগ কাউকে ভোট দিতে বাধা দিয়েছিল নাকি নির্বাচনই বন্ধ করে রেখেছিল? সেসময় প্রথম আলো গ্যাং যারা বর্তমানে ইন্টিরিম সরকারের নানা পদে বসে আছে- তারা অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচনের দাবী করে আসছিল এবং তা না করার জন্য শেখ হাসিনাকে দায়ী করত।
শেখ হাসিনা কোন দলকে নিষিদ্ধ করে নির্বাচন করতে দেয়নি এমন কোন নজির নেই। বরং বিএনপির মত বড় দল, ইসলামী ও বামপন্থীরা নির্বাচন বর্জন করেছিল। প্রতিদ্বন্দ্বীতাহীন নির্বাচন ছিল বলে ভোটারদের আগ্রহ ছিল না। কিন্তু লীগের আমলে কেউ ভোট দেয়নি এই ডাহা মিথ্যাটা কি করে প্রচার হচ্ছে? তখনকার মেয়র নির্বাচনগুলো তো ছিল জমজমাট। তখন মানুষ ভোট দেয়নি? স্থানীয় নির্বাচনগুলো তো ভোট দিয়েছে। সংসদ নির্বাচন বর্জন করার কারণে সেখানে কোন জমজমাট নির্বাচন হয়নি।
প্রথম আলো গ্যাং তখন ভোট দিতে যাওয়াকেই একটি অপরাধ হিসেবে দেখিয়েছে। ফলে প্রথম আলো গ্যাং পরিকল্পিতভাবে শাঁখা সিদুঁর পরা হিন্দু নারীদের ভোট দেয়ার ছবি প্রথম পৃষ্ঠায় ছেপে বিএনপি-জামাতের গুন্ডাদের টার্গেটে পরিণত করেছিল। ফলে নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতার বলি হয়েছিল হিন্দু সম্প্রদায়।
এবারও প্রথম আলো গ্যাং নির্বাচন নিয়ে একই রকম কাজ করছে। এবার তাদের ভূমিকা নির্বাচন হতে হবে এবং বিএনপিকে জিততেই হবে। অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচনের কথা এখন প্রথম আলো গ্যাং বলে না। বদু দেবু জিল্লুর মতি মাহফুজ দেশের সবচেয়ে বেশি ভোট যে দলটির তাদের বাদ দিয়ে কোন নির্বাচন যে অন্তর্ভূক্তমূলক হবে না সেকথা তারা বলে না। উল্টো তাদের ভোটারদের বিএনপিতে ভোট দিতে বলছে।
প্রথম আলো গ্যাং থেকে উপদেষ্টা হওয়া আসিফ নজরুল বলেছেন, নির্বাচনে অন্তর্ভূক্তি জোর করে করানো যায় না! নজরুল মিয়া দাবী করেছেন, আওয়ামী লীগ তো নির্বাচনের বিরোধীতা করেছে। এখন তাদের অন্তর্ভূক্তি কি জোর করে করানো যাবে? লোকটি ভালো মিথ্যা বলতে পারে অথচ প্রথম আলো গ্যাং কলামিস্টরা যেসব কলাম তখন লিখতো সেগুলোকে ওহি নাযিলের মত সকলে বিশ্বাস করতো। প্রচার করা হতো প্রথম আলো গ্যাং কলামিস্টরা সকলেই নিরপেক্ষ!
যাই হোক, আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বিরোধী নয়। তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার কারণে তাদের ক্যাম্পেইন ছিল ‘নো বোট নো ভোট’ মানে নৌকা নাই ভোটও নাই। শেখ হাসিনাই তার সময়ে সব দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে অনুরোধ করত। কিন্তু ইন্টিরিম সরকারের প্রথম আলো গ্যাং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে বলছে, তারা নির্বাচনে না আসলে জোর করে অন্তর্ভূক্তিমূলক নির্বাচন কিভাবে করবো?
এরকম একটি অন্যায় নির্বাচন ঠিকই অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে এবং বিদেশীদের বৈধতাও পেয়ে যাবে। সবই আন্তর্জাতিক রাজনীতি। ভারতকেও তো আফগান সরকারের সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়েছে। কাজেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধপন্থী, সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তি এবং আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের পর নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিজেদেরই করতে হবে এবং সেটা দেশে বসেই। প্রবাসে বসে ও ফেইসবুকে বিপ্লব করে নয়। অনলাইন এক্টিভিটির দরকার আছে। খুব আছে। কিন্তু রাজনীতিটা দেশেই করতে হবে।
জয় বা শেখ হাসিনা দেশে আসতে পারবে না, বাকীদের দেশেই আসতে হবে, অন্তত তৃণমূলদের নেতৃত্ব দিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এটা আওয়ামী লীগের জন্য যতটা দরকার তারচেয়ে বেশি দরকার বাংলাদেশের জন্য।
লেখক: সুষুপ্ত পাঠক