প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৫ ফেব্রুয়ারি- দেশ ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। শনিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে দুবাইগামী একটি ফ্লাইটে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। তার চূড়ান্ত গন্তব্য নেদারল্যান্ডস বলে জানা গেছে।
বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে তিনি বিদেশগামী ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন। ভ্রমণের সময় তিনি নেদারল্যান্ডসের পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন। তার বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রায় কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা না থাকায় বিমানবন্দরে তাকে বাধা দেওয়া হয়নি।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব প্রায় এক বছর আগে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে নীতিনির্ধারণ ও সংস্কার-সংক্রান্ত দায়িত্বে কাজ করছিলেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করলে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কাঠামোয় পরিবর্তন আসে। ওই প্রেক্ষাপটেই ফয়েজ তৈয়্যবের ভূমিকা আরও আলোচনায় আসে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রযুক্তি খাতে সংস্কার ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে দায়িত্বে আনে। নেদারল্যান্ডসের নাগরিক হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ শুরু করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই উপদেষ্টা, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই তার দেশত্যাগ নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে তার এই সফর স্থায়ী নাকি সাময়িক, সে বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দেশের বিমানবন্দরে যাত্রী আসা যাওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের সূত্র নিশ্চিত করেছেন যে, ফয়েজ তৈয়্যব আজ সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে দুবাইগামী এমিরেটস এর ফ্লাইটে বাংলাদেশ ছেড়েছেন। তার চূড়ান্ত গন্তব্যস্থল নেদারল্যান্ডস। বাংলাদেশ ত্যাগের সময় ফয়েজ তার নেদারল্যান্ডসের পাসপোর্ট NMF001DH5 ব্যবহার করেছেন। বিমানবন্দর গোয়েন্দা শাখার সূত্র জানায়, দেশ ত্যাগে বা বিদেশ গমণে ফয়েজ তৈয়্যবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা না থাকায় বিমানবন্দরে তার বহিঃগমনে কোন বাঁধা দেওয়া হয়নি।