১২ বছরের নাতনিকে ধর্ষণ, দাদার যাবজ্জীবন
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে প্রতিবেশী দাদা মোক্তার উদ্দিনকে (৫০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা…
মেলবোর্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারি- অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। তবে ১৬ বছরের ক্ষতি মাত্র ১৮ মাসে পূরণ করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, দেশ স্বৈরাচারী ধারা থেকে সরে এসে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে অগ্রসর হচ্ছে।
সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, চব্বিশের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করে। ১৬ বছরের দমন-পীড়নের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট সংকট উত্তরণে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তখন রাষ্ট্র অর্থনৈতিক বিপর্যয়, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের দুর্নীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। ব্যাংক খাতে লুটপাট ও অর্থপাচারের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারব্যবস্থার প্রতি জনআস্থাও নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একাধিক সংস্কার কমিশন গঠন করা হয় এবং তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয় বলে জানানো হয়। সরকারের দাবি, লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
প্রেস উইং জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৮ মাসে প্রায় ১৩০টি আইন প্রণয়ন বা সংশোধন এবং ৬০০টির বেশি নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। অর্থনীতি ও পররাষ্ট্র সম্পর্কেও অগ্রগতির কথা তুলে ধরা হয়। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তির ফলে হাজারো পণ্য শুল্কসুবিধা পেয়েছে। চীনের সঙ্গে সহযোগিতায় ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন ও বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থায় উন্নতির কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় শুল্কহার কমানোর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এখন পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ। ব্যাংকিং খাতে তদারকি বাড়ানো, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং পরিসংখ্যান প্রকাশে স্বাধীনতা দেওয়ার কথাও জানানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে সংস্কারের অংশ হিসেবে এক হাজারের বেশি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালুর তথ্য দেওয়া হয়েছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে পুনর্গঠন করে নতুন নামে কার্যক্রম পরিচালনার কথাও উল্লেখ করা হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মেধাভিত্তিক বিচারপতি নিয়োগ এবং নির্বাহী হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি করা হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার ও বন্ধ হয়ে যাওয়া গণমাধ্যম পুনরায় চালুর কথাও বিবৃতিতে রয়েছে।
সব মিলিয়ে সরকার বলছে, ১৬ বছরের ক্ষতি স্বল্প সময়ে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না হলেও সংস্কারের মধ্য দিয়ে একটি নাগরিকবান্ধব ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন শুরু হয়েছে, এবং দেশ এখন নতুন পথে এগোচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au