বাংলাদেশ

শপথ অনুষ্ঠানে গীতাপাঠ না থাকায় ঐক্য পরিষদের সমালোচনা, সকল ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের দাবি

  • 4:59 am - February 18, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৬৭ বার
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৮ ফেব্রুয়ারি- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে প্রকাশ্যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানে শুধু পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত রাখা হলেও অন্যান্য ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ থেকে পাঠের ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন সংগঠন এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এক প্রেস বিবৃতিতে বলেছেন, একটি সার্বজনীন ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র এক ধর্মের ধর্মগ্রন্থ পাঠ রাখা হলে অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বঞ্চিত হওয়ার অনুভূতি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তিনি উল্লেখ করেন, “রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতে সকল ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ রাখা হলে গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও সমান মর্যাদার বার্তা আরও দৃঢ় হবে।”

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, “বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র এবং সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ও মর্যাদার দাবিদার। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই নীতিকে বাস্তবে প্রতিফলিত করতে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে সব ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ থেকে পাঠের ব্যবস্থা করা অত্যাবশ্যক।”

তারা আরও বলেন, এমন একটি অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআনের পাঠ থাকলেও শ্রীমদ্ভগবদগীতা বা বাইবেলসহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ না থাকায় সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সুযোগ কমে গেছে, যা সমাজে বিভেদ ও বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। একাধিক ধর্মীয় ও মানবাধিকার কর্মী মনে করেন, নতুন সংসদের পথচলা যদি সমতা, সাম্য ও সমমর্যাদার বার্তা দিয়ে শুরু না হয়, তাহলে তা ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়েও প্রশ্নের উদ্রেক করতে পারে।

বিবৃতিতে সংগঠনটি সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় সকল গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সব ধর্মের ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের আয়োজন করা হোক যাতে নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও জোরদার হয় এবং সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলেছেন, দেশের সাংবিধানিক পটভূমিতে ধর্মনিরপেক্ষতার অনুভূতি বজায় রাখা প্রয়োজন। ধর্মীয় পরিবারগুলোর প্রতিনিধিত্ব না থাকলে তা সামাজিক সংহতি ও সমঝোতার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সরকার বা সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন মহল এই দাবিকে গুরুত্বসহ গ্রহণ করছে এবং ভবিষ্যতে এসব অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সমন্বয় বাড়াতে প্রস্তাবনা কার্যকর করার দাবি উঠেছে।

এই শাখার আরও খবর

নোয়াখালীর সেনবাগে হিন্দুদের বসতঘরে আগুন, নেপথ্যে কারা?

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : নোয়াখালীর সেনবাগে ভোররাতে হিন্দু পরিবারের একটি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘরটির আসবাবপত্রসহ সব মালামাল পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, আগুনে…

ইরানে মার্কিন হামলার খবরে বিশ্ববাজারে আবার বাড়ল তেলের দাম

ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) লেনদেনের শুরুতেই ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট…

থাইল্যান্ডে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ, পর্যটকদের ভিসা ১৫ দিনে সীমিত করার দাবি

থাইল্যান্ডে ইসরায়েলি নাগরিকদের ভ্রমণ ও অবস্থানের ওপর কড়াকড়ি আরোপের দাবিতে বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে। দেশটির পর্যটননগরী ফুকেতে গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) পৃথক দুটি প্রতিবাদ কর্মসূচি…

কুইবেকের বিদ্যালয়ে হিজাব-পাগড়িসহ ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা

কানাডার কুইবেক প্রদেশের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের হিজাব, পাগড়ি ও ইহুদিদের ঐতিহ্যবাহী টুপি কিপ্পা পরার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে নতুন সরকার। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিদ্যালয়ে…

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন

রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার…

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রধান শিক্ষক ভবানন্দ পালকে গ্রেপ্তার, মেলেনি জামিন

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : ঠাকুরগাঁওয়ে প্রধান শিক্ষক ভবানন্দ পালকে চেকসংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা শহরের মন্দিরপাড়া…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au