মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছরে মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে ভারতের তুলনায় এগিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। যদিও সামগ্রিক অর্থনীতির আকারে ভারত…
মেলবোর্ন, ২১ ফেব্রুয়ারি- ভারত অর্থনৈতিকভাবে এগিয়েছে। শহুরে জীবনযাত্রায় আরাম এখন অনেকের কাছে স্বাভাবিক বিষয়। এক সময় ছাত্রাবাসে জেটস্প্রে বা গিজার আছে কি না, তা ছিল আলোচনার বিষয়। এখন শহরের ছাত্ররা খোঁজ নেয় ১০ মিনিটে পণ্য সরবরাহ করা অ্যাপের ডার্ক স্টোর কাছাকাছি আছে কি না। এই পরিবর্তন শুধু ভোগের অভ্যাসে নয়, মানসিকতার দিক থেকেও বড় রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়।
দ্রুত নগরায়ন, বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সরকারি জমি অধিগ্রহণের ফলে বহু মানুষ নিম্ন আয়ের স্তর থেকে নিম্ন-মধ্যবিত্ত, আবার সেখান থেকে উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উঠতে পেরেছেন। জীবনের আর্থসামাজিক স্থিতি অনেকের জন্য আগের চেয়ে বেশি নিশ্চিত হয়েছে। ফলে যুদ্ধ, সংঘাত বা রাজনৈতিক অস্থিরতার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে নতুন প্রজন্ম ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকটকে অনেকেই দূরের ঘটনা হিসেবে দেখছেন। সামাজিক মাধ্যমে তা হয়তো খবর বা হ্যাশট্যাগ হয়ে ওঠে, কিন্তু তার গভীরতা অনুধাবন করা হয় না। অথচ প্রতিবেশী দেশের অস্থিরতা কখনওই পুরোপুরি দূরের বিষয় নয়।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি দেখায়, আপাত স্থিতিশীলতার আড়ালেও প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে। রাজনৈতিক মেরুকরণ, উগ্রপন্থার বিস্তার এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দুর্বলতা মিললে যে কোনো সমাজেই অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে অসন্তোষ জমতে থাকে।
ভারতে দ্রুত নগরায়নের ফলে মানুষের অভিজ্ঞতার জগৎও বদলেছে। আগে নতুন শহরে গিয়ে মানুষ ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও ভিন্ন জীবনধারার সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হতো। এখন সেই অভিজ্ঞতার বড় অংশ সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে মোবাইলের পর্দায়। অ্যালগরিদম নির্ধারিত কনটেন্টের ভেতর দিয়ে মানুষ এমন এক বাস্তবতা দেখে, যা পুরো চিত্র নয়। এতে জটিল সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিস্থিতির গভীর আবেগ ও প্রভাব অনেক সময় বোঝা যায় না।
বাংলাদেশের সংকট তাই ভারতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এটি মনে করিয়ে দেয়, অর্থনৈতিক উন্নতি ও নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য স্থায়ী স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা নয়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী রাখা, রাজনৈতিক মতভেদকে সহনশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করা এবং সমাজে উগ্রতার বিস্তার রোধ করা—এসবই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি।
প্রতিবেশীর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়াই পরিণত রাষ্ট্রের লক্ষণ। বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভারতকে স্মরণ করিয়ে দেয়, স্থিতিশীলতা কখনও স্বতঃসিদ্ধ নয়; তা রক্ষা করতে হয় সচেতনতা, দায়বদ্ধতা ও সক্রিয় নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে।
সূত্রঃ ফাস্ট পোস্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au