মেলবোর্ন, ২৩ ফেব্রুয়ারি- ভোলার তজুমদ্দিনে কীর্তন শুনতে যাওয়া এক হিন্দু নারী গণধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি এক সন্তানের জননী এবং স্থানীয় সূত্রে তার বয়স ২৫ বছর জানানো হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তজুমদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুশেন দাসের মেয়ে কীর্তন শুনতে চাঁদপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের গোলকপুর গ্রামের অনিল সাধুর মন্দিরে যান। রাত ৯টার দিকে স্থানীয় অটোচালক রাকিব, শাকিল ও রাসেল, যাদের সঙ্গে সে পূর্বে পরিচিত ছিল, তাকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে অটোতে তুলে নেন। অটো কীর্তনের পাশের ধোপাবাড়ির দরজায় এসে তারা তাকে মুখ চেপে ধরে সুপারি বাগানে নিয়ে যান এবং চেতনানাশক ঔষধ খাওয়ানো হয়। এরপর তিনজনই পালাক্রমে রাতভর তাকে ধর্ষণ করেন।
ঘটনার শেষভাগে যুবতীর চেতন ফিরলে তিনি দেখেন তার পরনের সেলোয়ার রক্তে ভিজে গেছে। ডাকচিৎকার শুরু করলে ধর্ষকরা তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
জোরপূর্বক ধর্ষণের শিকার যুবতী হাসপাতাল থেকে জানান, তিনি কীর্তনে যাওয়ার পর রাতের সময় রাকিব, সোহেল ও রাসেল তাঁকে অটোতে তুলে নিয়ে ধোপাবাড়ির ধারে জোরপূর্বক চেতনানাশক ঔষধ খাওয়ানো হয় এবং সুপারি বাগানে তিনজন মিলে তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
তজুমদ্দিন হাসপাতালের আরএমও ডা. সামছুল আলম সোহেল বলেন, “যুবতীকে রক্তক্ষরণ ও আঘাতজনিত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।”
তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সালাম জানান, হাসপাতালে রক্তমাখা জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়েছে এবং ধর্ষণের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।