চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৭ ফেব্রুয়ারি- পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্তে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু রিপোর্টে বলা হচ্ছে, আফগানিস্তানের তালেবান প্রধান হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এই হামলায় তালেবানের অন্যান্য শীর্ষ কমান্ডাররাও প্রাণ হারিয়েছেন। তবে পাকিস্তান এবং আফগান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এই দাবির কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি, যার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যাপক অস্থিরতার মুখে রয়েছে।
পাকিস্তানের বিমান বাহিনী কাবুল ও অন্যান্য শহরে তালেবানের ঘাঁটিতে আঘাত হানার পরই এই খবর ছড়িয়ে পড়েছে। OSINT Europe নামের একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট জানিয়েছে, আখুন্দজাদা এবং কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার মারা গেছেন। কিন্তু আফগান ও পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ উভয়েই এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি। এ সময়ে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে সংঘর্ষ, প্রতিরোধমূলক হামলা এবং আন্তর্জাতিকভাবে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান সবই এক সঙ্গে ঘটছে।
হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা কে?
হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ২০১৬ সাল থেকে আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাতের প্রধান ও তালেবানের সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সাধারণত জনসমক্ষে উপস্থিত হন না এবং মিডিয়ার মাধ্যমে নয়, বরং যোগাযোগ ও তালেবানের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নির্দেশিকা দেন। তাঁর নেতৃত্বে তালেবান ২০২১ সালে আফগানিস্তান দখল করে। তাঁর ক্ষমতা রাজনৈতিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে দৈনন্দিন কার্যক্রমের অনেকটাই তার ডেপুটি ইয়াকুব ও সিরাজউদ্দিন হাক্কানির হাতে থাকে। অতীতেও আখুন্দজাদার স্বাস্থ্য বা মৃত্যুর বিষয়ে বিভিন্নবার গুজব ছড়িয়েছে, যা প্রমাণহীন হয়েছে।
সীমান্তে সাম্প্রতিক বিমান হামলা কেন?
পাকিস্তান সম্প্রতি ডুরান্ড লাইন বরাবর সীমান্তে ক্রস-বর্ডার হামলা ও নিহতের ঘটনায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, আফগানিস্তান থেকে তাদের সেনাদের ওপর হামলা চালানো হয় এমন সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করে বিমান অভিযান চালানো হয়েছে। পাকিস্তান এই অভিযানকে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ নামে ডাকা হয়েছে এবং এতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP) ও ইসলামিক স্টেট-খোরাসান প্রদেশ (ISKP) গ্রুপের ঘাঁটিও ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছে।
আফগান কর্তৃপক্ষ এই হামলাকে দেশীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। স্থানীয় বসতবাড়ি ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক পাকিস্তানি বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
যদিও সামাজিক মাধ্যমে আখুন্দজাদার মৃত্যু দাবি করা হচ্ছে, আফগান ও পাকিস্তানি সরকারি সূত্র থেকে তা নিশ্চিত করা হয়নি। আখুন্দজাদার স্বভাবগতভাবে জনসমক্ষে কম উপস্থিত হওয়ায় এবং অতীতের গুজবের কারণে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এই দাবিকে শুধুমাত্র গুজব হিসেবে দেখা উচিত যতক্ষণ না কোনো বিশ্বাসযোগ্য সূত্র নিশ্চিত তথ্য দেয়।
অন্যান্য শীর্ষ কমান্ডারের মৃত্যু
আখুন্দজাদার অবস্থা অনিশ্চিত থাকলেও, কিছু শীর্ষ তালেবান কর্মকর্তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম মোল্লা নেদা মোহাম্মদ নাদিম, তালেবানের হাইয়ার এডুকেশন মন্ত্রণালয়ের কার্যনির্বাহী মন্ত্রী এবং আখুন্দজাদার জামাতের দীর্ঘমেয়াদি কর্মকর্তা। পাকিস্তানি বিমান হামলায় ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যু সীমান্তীয় সংঘাত কতটা গুরুতর তা প্রমাণ করছে।
ডুরান্ড লাইনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি
সাম্প্রতিক হামলা সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। পাকিস্তান দাবি করছে, আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। আফগান কর্মকর্তারা পাকিস্তানের এই দাবিকে খারিজ করে আন্তর্জাতিক আইন ও আফগান সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ করছেন।
এ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল শান্তি ও সীমান্তে শান্তি চুক্তিকে বিপন্ন করতে পারে। কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, উত্তেজনা চলতে থাকলে অঞ্চলটির সংবেদনশীল স্থিতিশীলতা ভেঙে যেতে পারে, সাধারণ জনগণের জীবন বিঘ্নিত হতে পারে এবং আরও সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে।
বর্তমানে আখুন্দজাদার বাস্তব অবস্থা অনিশ্চিত থাকলেও, এই অঞ্চলের অস্থিরতা ও সীমান্ত সংঘাত শীর্ষ নেতৃত্বকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
সূত্রঃ দ্য সানডে গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au