বাংলাদেশ

চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা

  • 12:18 am - March 08, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৩২৩ বার
চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে শহরের বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন পল্লানকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিহতের স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ২টার দিকে পল্লানকাটা এলাকার একটি বাড়ির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় গণেশ পালকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত গণেশ পাল কক্সবাজার শহরের পৌরসভা মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী। তিনি সম্প্রতি পল্লানকাটা এলাকায় নতুন একটি বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। তার ভাই আশীষ পাল জানান, শনিবার সকালেও গণেশ তার সঙ্গে দোকানে ছিলেন। পরে বাড়ির নির্মাণকাজ তদারক করতে তিনি পল্লানকাটা এলাকায় যান। সেখানে বাড়ির সেপটিক ট্যাংক বসানোর কাজ চলছিল।

আশীষ পাল অভিযোগ করেন, বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করার পর থেকে এলাকার কিছু যুবক রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে তার ভাইয়ের কাছে চাঁদা দাবি করছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, জিসান নামে এলাকার এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং তার সহযোগীরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। অভিযুক্ত জিসান পল্লানকাটা এলাকার মোহাম্মদ জাকিরের ছেলে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জিসানের নেতৃত্বে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, জিসান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রাজবিহারী দাশ এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, দিনদুপুরে চাঁদার জন্য এভাবে একজন মানুষকে হত্যা করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে চাঁদা না দেওয়ায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং ঘটনার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই শাখার আরও খবর

কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…

ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…

পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, মেয়ে নিহত মা নিখোঁজ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  পিরোজপুরে দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেছে আট বছরের শিশু অর্পিতা বেপারীর। এ ঘটনায় তার মা রিনা…

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au