“অস্ট্রেলিয়াতেই থাকো, দেশে ফিরলে তারা তোমাকে মেরে ফেলবে”
মেলবোর্ন ১১ মার্চ: অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চাওয়া ইরানের নারী ফুটবল দলের সাত সদস্যের হাসিমাখা ছবি দেখলে মনে হতে পারে তারা স্বস্তিতে আছেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের পরিস্থিতি…
মেলবোর্ন, ১১ মার্চ: হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের নৌবাহিনীর একাধিক জাহাজ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। ধ্বংস হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে অন্তত ১৬টি মাইন বসানোর জাহাজ (মাইনলেয়ার) রয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই বৈশ্বিক বাণিজ্যপথে বিস্ফোরক মাইন পেতে রাখলে তার কঠোর সামরিক পরিণতি হবে।
মঙ্গলবার পরিচালিত এই হামলা এমন সময়ে ঘটেছে, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানো শুরু করেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
যুদ্ধ শুরুর পর গত ১১ দিন ধরে ইরানি হামলার কারণে কার্যত হরমুজ প্রণালী অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বারবার বলেছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে এই প্রণালী খোলা রাখা জরুরি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প বলেন, “যদি ইরান হরমুজ প্রণালীতে কোনো মাইন বসিয়ে থাকে, তবে তা অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে। যদি তা না করা হয়, তাহলে এর সামরিক পরিণতি হবে আগে কখনো দেখা যায়নি এমন কঠোর।”
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে ইরানের একাধিক নৌযান ধ্বংস হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

১০ মার্চ হরমুজ প্রণালীর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের একাধিক নৌযান ধ্বংস হয়, যার মধ্যে ১৬টি মাইন বসানোর জাহাজ ছিল। ছবি: সংগৃহীত x
https://x.com/CENTCOM/status/2031489675760640370?s=20
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে ৫০টিরও বেশি ইরানি নৌযান ধ্বংস হলেও তেহরানের কাছে এখনও ৮০ শতাংশের বেশি ছোট নৌকা ও মাইন বসানোর জাহাজ রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে প্রণালীতে বিস্ফোরক ফাঁদ পাতা সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কাছে আনুমানিক ২ হাজার থেকে ৬ হাজার পর্যন্ত সমুদ্র মাইন মজুত থাকতে পারে, যদিও এর সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত নয়।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর গত ১১ দিন ধরে ইরানি হামলার কারণে কার্যত হরমুজ প্রণালী অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বারবার বলেছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে এই প্রণালী খোলা রাখা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সাংবাদিকদের বলেন, প্রণালীতে মাইন বসানোর আগে এসব জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিরাপদ রাখা যায়।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা এবং তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকসহ একাধিক বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৯.৫০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা যুদ্ধের আগের দামের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি। পরে দাম কমে সোমবার ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au