বাগেরহাটে বাস-মাইক্রোবাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত অন্তত ১৩
মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বাগেরহাটের রামপাল এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রামপাল উপজেলার গুনাই…
মেলবোর্ন, ১২ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নষ্ট হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকেই তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।
ইরানের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। এই অস্থিতিশীলতার জন্য পশ্চিমা দেশগুলো এবং তাদের মিত্রদের দায়ী করেছে তেহরান।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলে এক লিটার তেলও যেতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, এই দেশগুলোর মিত্রদের কোনো জাহাজ বা ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করলে সেটিকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং প্রয়োজন হলে হামলা চালানো হবে।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। সংস্থাটির ৩২টি সদস্য দেশ যৌথভাবে কৌশলগত মজুত থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইইএ-র ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় জরুরি হস্তক্ষেপ।
তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত সরবরাহ সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সংকট কাটাতে যথেষ্ট নয়। কারণ প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাজারে সরবরাহ হতো, তা মজুত তেল দিয়ে পূরণ করা প্রায় অসম্ভব।
বিশ্বের জ্বালানি ধমনি হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়। বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এটি ১৯৭০-এর দশকের ঐতিহাসিক তেল সংকটের পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। এতে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au