ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জাতিসংঘে বৈঠক ঠেকাতে ব্যর্থ রাশিয়া ও চীন
মেলবোর্ন, ১৩ মার্চ- ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক আয়োজন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে রাশিয়া ও চীন। দুই দেশের বিরোধিতা সত্ত্বেও ভোটাভুটিতে…
মেলবোর্ন, ১৩ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ ভারত বিবেচনা করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ একই ধরনের অনুরোধ জানিয়েছে। তিনি জানান, ভারতের নিজস্ব প্রয়োজন এবং শোধনাগারের সক্ষমতা পর্যালোচনা করে সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরব, কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। গত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে এ অনুরোধ জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবেশী দেশগুলোতে বড় আকারে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানি করে আসছে। বাংলাদেশে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০০৭ সাল থেকে সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে এই সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০১৭ সালে ডিজেল কেনাবেচা সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই করে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড ও বাংলাদেশের বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। সেই চুক্তির আওতায় বর্তমানে ডিজেল সরবরাহ চলছে। অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও শোধনাগারের সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। ওই বৈঠকের পর উভয় পক্ষই গণমাধ্যমকে জানায়, বাংলাদেশ অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
ব্রিফিংয়ে আরও দুটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি রণধীর জয়সোয়াল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে নতুন কিছু বলার নেই।
এ ছাড়া বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের প্রধানের সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ডিজিএফআই প্রধান ভারতে এসেছিলেন এবং রাইসিনা ডায়ালগের অবসরে তিনি ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে থাকতে পারেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au