যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে জ্বালানি রেশনিংয়ের মুখে পড়তে পারে অস্ট্রেলিয়া
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হলে অস্ট্রেলিয়াকে জ্বালানি রেশনিংয়ের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন…
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- ভারতের নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রীতিমত যুদ্ধে শামিল ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই যুদ্ধ হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট হয়ে ঠেকেছে দেশটির সংসদে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণে সংসদে নোটিশ পর্যন্ত দিয়েছে দলটি। এসবের মধ্যেই গতকাল সেই জ্ঞানেশ কুমারই পশ্চিমবঙ্গসহ আরও চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন।
আর এই তফসিল ঘোষণার কয়েকঘণ্টার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সিভিল প্রশাসনে ‘ঘূর্ণিঝড়’ তুলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই ঝড়ে বলা চলে, লন্ডভন্ড হয়ে গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাজানো প্রশাসন। তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, প্রশাসন দলীয়করণ করে নির্বাচনে জিততে চেয়েছিলেন মমতা। কিন্তু তৃণমূলের সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
তফসিল ঘোষণার পরপরই বদলি
৪৮ বছর পর দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের ঘোষণা থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছিল এবার নিরপেক্ষ ভোট করতে কড়া পদক্ষেপ নেবে নির্বাচন কমিশন। হয়েছেও তাই, তফসিল ঘোষণার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তি রাজ্যের মুখ্যসচিবের পদ থেকে মমতার পছন্দের আমলা নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেয় কমিশন। তার জায়গায় নিয়োগ করা হয় দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে।
সরিয়ে দেওয়া হয় রাজ্যের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব করা হয় নারী আমলা সংঘমিত্রা ঘোষকে। এখানেই থামেনি নির্বাচন কমিশন, পরের দিন সোমবার সকাল থেকেই শুরু হয় একের পর এক বদলি এবং পদায়ন। বিশেষ করে তৃণমৃল ঘনিষ্ঠ আমলাদের সরিয়ে দেওয়া হয় প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলো থেকে।
পুলিশে ব্যাপক ওলটপালট
পুলিশ প্রশাসনে ওলটপালট শুরু হয় রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে দিয়ে। এক ধাক্কায় পুলিশ ৫ শীর্ষ কর্তাকে সরিয়ে নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, এসব কর্মকর্তাকে ভোটের কোনো দায়িত্বেই রাখা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মমতা ঘনিষ্ঠ রাজ্য পুলিশের ডিজি পদ থেকে পীযূষ পাণ্ডে এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সুপ্রতীম সরকারকে সরিয়ে দেয়া হয় সোমবার সকাল হতে না হতেই । পুলিশের নতুন ডিজি হিসেবে আনা হয়েছে আইপিএস অফিসার সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে। আর সুপ্রতীম সরকারকে সরিয়ে কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার করা হয়েছে সিনিয়র আইপিএস অফিসার অজয় নন্দাকে। পাশাপাশি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েলকে সরিয়ে সেই জায়গায় আনা হয়েছে অজয় মুকুন্দ রানাডেকে।
পশ্চিমবঙ্গের ডিজিপি পদে পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে দায়িত্বে আসা সিদ্ধনাথ গুপ্ত ১৯৯২ ব্যাচের আইপিএস। তাকে ডিজি (ভারপ্রাপ্ত) পদে নিয়োগ করা হয়েছে।
কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা ১৯৯৬ ব্যাচের আইপিএস। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন তিনি। মাওবাদী দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তার। আসানসোল-দুর্গাপুরের কমিশনার হিসাবেও কাজ করেছেন একসময়। ছিলেন কলকাতা পুলিশেও। এর আগে পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ-এর প্রথম আইজি নিযুক্ত হয়েছিলেন অজয়।
রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদে ছিলেন বিনীত গোয়েল। তিনি নানা কারণে বির্তকিত। তাকে সরিয়ে দায়িত্বে আসা অজয় মুকুন্দ রানাডে ১৯৯৫ ব্যাচের আইপিএস।
পরিবর্তন আনা হয়েছে ডিজি (কারা) পদেও। নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নটরাজন রমেশ বাবুকে। তিনি ১৯৯১ ব্যাচের আইপিএস।
আগেই ভৎর্সনা করা হয়েছিল বিনীত গোয়েলকে
কিছু দিন আগে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। তারা রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল। ওই বৈঠকে এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) বিনীত ভর্ৎসিত হয়েছিলেন। সেদিন জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, জেলাশাসক হোন বা পুলিশ কমিশনার, গাফিলতি দেখলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ওইদিনই পধান নির্বাচন কমিশনারের ধমক খান বিনীত।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বদ্ধপরিকর কমিশন
পশ্চিমবঙ্গে ভোট মানেই হানাহানি, বোমা, খুন- এমন চিত্র গত কয়েক বছর ধরেই দেখছে কমিশন। তাই এবার তফসিল ঘোষণার ঠিক পরেই রাজ্য প্রশাসনে এমন রদবদল। জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, দফা কমানো হলেও পশ্চিমবঙ্গে অবাধ, শান্তিপূর্ণ, হিংসামুক্ত নির্বাচনের আয়োজন করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যেই রাজ্য প্রশাসনে রদবদল করা হচ্ছে। বদলে দেওয়া হচ্ছে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষকর্তাদের।
কটাক্ষ করেছে তৃণমূলের
নির্বাচন কমিশনের এসব সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ‘কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে। রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যসচিবকে বদলে দেওয়া হল। সিপি, ডিজিকে বদলে দেওয়া হল। তবে লাভ নেই। যত ইচ্ছা রদবদল করুক। বাংলার মানুষের মন বদলাতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রীও বদলাতে পারবে না। গতবারের চেয়ে একটা হলেও বেশি আসন নিয়ে তৃণমূল ফিরবে।’
খুশি বিরোধীদল
রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল বিজেপি নির্বাচন কমিশনের এসব সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছে, এবার আবার তৃণমূল ভোট চুরি করে ক্ষমতায় যেতে পারবে না। জনগণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেবে। নিশ্চিত সেই ভোটে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসবে।
কংগ্রেসসহ অন্যান্য দলগুলোও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, ভোট চুরির দিন শেষ। এবার তৃণমূলেও দিন শেষ। কারণ তারা ভোট চুরি করেই বারবার ক্ষমতায় এসেছে।
এখানেই থামবে না নির্বাচন কমিশন
এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করবে- এমন অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধেই উঠবে, তাদের বিরুদ্ধেই অ্যাকশন নেওয়া হবে। এর আগের নির্বাচনগুলোতে যারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, এবার তাদের কোনো দায়িত্বে রাখা হবে না। প্রয়োজনে তাদেরকে রাজ্যের বাইরে ডেপুটেশনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এরই মধ্যে আরও কয়েকজন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব কর্মকর্তাকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে কমিশন।
রাজ্যে প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে ২৯ এপ্রিল। আর ভোটের ফলাফল জানা যাবে ৪ মে। সবশে ১৯৭৭ সালে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল দুই দফায়। এবার বিরোধীদলগুলো কম দফায় ভোট নিতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছিল।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au