📍 ভোটগণনায় এগিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি—বাংলায় প্রথম সরকার গঠনের সম্ভাবনা জোরালো
মেলবোর্ন, ৪ মে: বাংলায় প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে এগিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি। অন্যদিকে টানা ১৫ বছরের শাসনের পর বড় ধাক্কার মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনায় যে চিত্র ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে, তা শুধু একটি নির্বাচনের ফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সম্ভাব্য সমাপ্তি এবং আরেকটি নতুন অধ্যায়ের সূচনার ইঙ্গিত বহন করছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলের ধারা বলছে, ভারতীয় জনতা পার্টি বাংলায় প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে রয়েছে, আর টানা দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধরনের পরাজয়ের মুখোমুখি।
এই নির্বাচন ছিল একাধিক দিক থেকে ব্যতিক্রমী। বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচন হিসেবে এটি শুরু থেকেই রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। ভোটগ্রহণ হয় দুই দফায়—২৩ এবং ২৯ এপ্রিল, যার মধ্যে কিছু কেন্দ্রে পুনর্ভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোট ২৯৪টি আসনের এই বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন, এবং বর্তমান প্রবণতা সেই ম্যাজিক ফিগারের দিকেই বিজেপির অগ্রযাত্রা স্পষ্ট করে তুলছে।
এই নির্বাচনের কেন্দ্রে ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, বর্তমানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-এর মুখোমুখি লড়াই। নন্দীগ্রামের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের পর এবার ভবানীপুরেও সেই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা পুরো রাজ্যের নজর কেড়েছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৫টি আসন জিতে বিপুল ব্যবধানে ক্ষমতায় ফিরেছিল, আর বিজেপি ৭৭টি আসন নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়। সেই সময় কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট কার্যত শূন্যে নেমে আসে। কিন্তু পাঁচ বছরের ব্যবধানে রাজনৈতিক বাস্তবতা যে এত দ্রুত পাল্টে যেতে পারে, এবারের ফলাফল তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভোটের ময়দানে কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট উপস্থিত থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যেই। এর সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করে বরখাস্ত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির-এর গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল, যা কিছু ক্ষেত্রে ভোটের অঙ্কে প্রভাব ফেলেছে।
পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াজুড়ে রাজ্যজুড়ে যে উত্তাপ অনুভূত হয়েছে, তা কেবল ভোটের প্রতিযোগিতার কারণে নয়। এটি ছিল একদিকে দীর্ঘদিনের শাসনের ওপর জনমতের মূল্যায়ন, অন্যদিকে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির প্রতি মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন। গ্রামীণ জনপদ থেকে শহুরে কেন্দ্র—সব জায়গাতেই দেখা গেছে তীব্র প্রচার, প্রতিশ্রুতি আর পাল্টা প্রতিশ্রুতির বন্যা। উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, এবং পরিচয় রাজনীতির প্রশ্নগুলো এই নির্বাচনে সমান গুরুত্ব পেয়েছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের নজির তৈরি হবে। আর তাতে শুধু একটি সরকারের পরিবর্তনই নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি, ক্ষমতার কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথেও বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। এখন নজর শেষ ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করবে এই পরিবর্তন বাস্তবে কতটা গভীর এবং স্থায়ী হতে যাচ্ছে।
🟥 আসামে জলুকবাড়িতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জলুকবাড়ি কেন্দ্রে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি কংগ্রেস প্রার্থী বিদিশা নেওগ-এর চেয়ে ৬৩,০২৯ ভোটে এগিয়ে আছেন।
১৩ দফা গণনা শেষে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পেয়েছেন ৮৯,৫৬২ ভোট, আর বিদিশা নেওগ পেয়েছেন ২৬,৫৩৩ ভোট। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার পরাজয়ের পর ২০০১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এই আসনে জয়ী হয়ে আসছেন তিনি এবং এবার টানা ষষ্ঠবার জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন।
🟥 কেরালায় ইউডিএফ-এর ‘ঐতিহাসিক’ জয়ের ইঙ্গিত: শশী থারুর
কেরালার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে “ঐতিহাসিক” ও “অভূতপূর্ব” বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। তিনি জানান, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট ১৪০ আসনের বিধানসভায় ১০০টির বেশি আসন পেতে পারে।
তিরুবনন্তপুরমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এক দশকের এলডিএফ শাসনের পর এই ফলাফল পরিবর্তনের শক্ত বার্তা বহন করছে। তিনি আরও জোর দেন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর এবং মুখ্যমন্ত্রী পদে নিজেকে বিবেচনার বাইরে রাখেন।
🟥 বাংলায় বিজেপির এগিয়ে থাকা নিয়ে উদযাপন, ‘রাম রাজ্য’ মন্তব্য সুকান্তর
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এগিয়ে থাকার প্রবণতায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ফলাফলের ধারা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পথে এবং “রাম রাজ্য” প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
কলকাতার দলীয় কার্যালয়ে কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে, যেখানে নির্বাচন কমিশনের প্রবণতা অনুযায়ী দুপুর আড়াইটার দিকে ভারতীয় জনতা পার্টি প্রায় ১৯১টি আসনে এগিয়ে ছিল।