মেলবোর্ন, ২০ মার্চ- পুরান ঢাকার কেরানীগঞ্জ-এ কিশোরকে হত্যা দেখিয়ে দায়ের করা একটি মামলায় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ ১২৪ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক বদিয়ার রহমান-এর দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই আদেশ দেন।
তদন্তে উঠে আসে, ‘নিহত’ হিসেবে উল্লেখ করা কিশোর জিহাদ আসলে জীবিত এবং সুস্থ রয়েছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সে জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভার-এর বাইপাইল এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল এবং এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসা নেয়।
পুলিশি তদন্তে আরও দেখা যায়, ঘটনাটি কেরানীগঞ্জে নয়, বরং হাজারীবাগ এলাকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ, জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানো এবং ভুল স্থানে ঘটনা দেখিয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে ‘তথ্যগত ভুল’ হিসেবে প্রমাণিত হয়।
মামলার বাদী জহিরুল ইসলাম রাজু ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিসহ ১২৪ জনকে আসামি করা হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, সে সময় বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের মামলা করেছে, যা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে। তিনি জানান, মিথ্যা মামলা করে কাউকে হয়রানি করলে আইনে শাস্তির বিধান থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ খুব কম।
সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল এ ধরনের মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে আসামিপক্ষের আইনজীবী ওবাইদুল ইসলাম বলেন, এই মামলায় তার মক্কেল দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তদন্ত কর্মকর্তা বদিয়ার রহমান জানান, মামলাটিতে দুটি বড় অসঙ্গতি ছিল—জীবিতকে মৃত দেখানো এবং ভিন্ন স্থানের ঘটনাকে কেরানীগঞ্জে ঘটেছে বলে উপস্থাপন করা। এ কারণে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
সব মিলিয়ে, আলোচিত এই মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সব আসামিকে অব্যাহতি দিলেও, মিথ্যা মামলা দায়েরের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।