মেলবোর্ন, ২০ মার্চ- বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর ট্রানজিট ফি বা টোল আরোপের প্রস্তাব বিবেচনা করছে ইরান। দেশটির এক সংসদ সদস্য বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা অতিরিক্ত খরচ আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি-এর বরাতে জানা গেছে, পার্লামেন্টে একটি বিল নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত এই আইনের আওতায় জ্বালানি, পণ্য ও খাদ্য পরিবহনের জন্য প্রণালিটি ব্যবহারকারী দেশগুলোকে ইরানকে টোল ও কর দিতে হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরান এই কৌশলগত জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে চলমান উত্তেজনার পর থেকে ইরান কিছু জাহাজের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এক উপদেষ্টা ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটলে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে নতুন নীতিমালা চালু করা হতে পারে। এতে যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক বিধিনিষেধ প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
দেশটির সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোখবার বলেন, হরমুজ প্রণালির কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব, এমনকি প্রয়োজনে তাদের জাহাজ চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স।