ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে মাছ-মাংস-মসলার দাম , ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ মার্চ- পবিত্র ঈদুল ফিতর-কে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মাছ, মাংস ও মসলার দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা বিরাজ করছে মসলার বাজারে। কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা বাজারে এলাচ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা কেজি দরে, যা কয়েকদিন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এছাড়া দারুচিনি ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা, জয়ত্রি ৪ হাজার টাকা, জায়ফল ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং লবঙ্গ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। জিরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, ধনিয়া ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং তেজপাতা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শুকনো ফলের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। কিশমিশ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, আলুবোখারা ১ হাজার ৪০০ টাকা, কাজুবাদাম ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, কাঠবাদাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং পেস্তা বাদাম ৪ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ঈদকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়ায় মাংসের বাজারেও চাপ বেড়েছে। গরুর মাংস এখন ৮৫০ টাকা কেজি, যা আগের তুলনায় প্রায় ৮০ টাকা বেশি। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়, যা কেজিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি। মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি রয়েছে—ব্রয়লার ২১০ থেকে ২২০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে।
মাছের বাজারেও একই চিত্র। পোয়া মাছ ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙাস ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা এবং রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গলদা চিংড়ি ছোট আকারে ১ হাজার টাকা এবং বড় আকারে ১ হাজার ২০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা ও পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। বিক্রেতারা দ্রুত পণ্য বিক্রি করে গ্রামে যাওয়ার তাড়ায় তুলনামূলক কম দামে সবজি বিক্রি করছেন। বর্তমানে পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা ৩৫ থেকে ৫০ টাকা এবং বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং লেবু প্রতি হালি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি থাকায় খোলা তেলের দাম বেড়ে ২১৫ থেকে ২২০ টাকা লিটারে উঠেছে। চিনির দামও কিছুটা বেড়েছে—বিদেশি চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা এবং দেশি চিনি ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
তবে ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ সেমাইয়ের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ২০০ গ্রাম প্যাকেট সেমাই ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ৮০০ গ্রাম বোম্বাই সেমাই ২৮০ টাকা এবং খোলা লাচ্ছা সেমাই ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সুগন্ধি চালের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। চিনিগুঁড়া চালের প্যাকেট ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা এবং খোলা চাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি।