ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নরম সুর কেন
মেলবোর্ন, ২৪ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান উত্তেজনা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতার মধ্যেই হঠাৎ করে নরম অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।…
মেলবোর্ন, ২৩ মার্চ- দেশজুড়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক এসব ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি আহত হচ্ছেন বহু মানুষ। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করার পর থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘর্ষের বেশিরভাগ ঘটনায় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠছে। কোথাও দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল, কোথাও আবার প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের মধ্যে বিরোধ রূপ নিচ্ছে সহিংসতায়। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও অনাস্থা তৈরি হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারি ও অর্থনৈতিক সুবিধা দখল এবং একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতাই এসব সংঘাতের মূল কারণ। একই সঙ্গে দলীয় নতুন ও পুরোনো গ্রুপের দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তাদের মতে, এই সহিংসতা অব্যাহত থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে পাবনার সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে চায়না খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন। একই সময়ে পাবনার ঈশ্বরদীতেও বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন এবং প্রায় ২০টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ এবং ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহার মিয়া জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই ভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়, যা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এর আগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও নাটোরের সিংড়ায়ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ বহু মানুষ আহত হন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল জড়িত বলে জানা গেছে।
পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক কোন্দল নতুন কিছু নয়, তবে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ঘটনায় জড়িতদের আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি সাধারণ মানুষকে যেকোনো অপরাধ বা সংঘর্ষের তথ্য নিকটস্থ থানা বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ জানানোর আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়নি, বরং নিয়মিত দায়িত্বের অংশ হিসেবেই এগুলো মোকাবিলা করা হচ্ছে।
এদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, যেকোনো সহিংসতা ও প্রাণহানি দুঃখজনক এবং তা প্রতিরোধ করা জরুরি। নতুন সরকারের সামনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, কোথায় কোথায় সংঘর্ষ হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘর্ষ হয়ে থাকলে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, বর্তমান সহিংসতা সমাজে সহনশীলতার ঘাটতির প্রতিফলন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক পর্যায়েও সচেতনতা বাড়াতে হবে।
সার্বিকভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত এসব সহিংসতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au