কাতারের এলএনজি স্থাপনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- কাতারের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কর্মীরা রয়েছেন বলে জানিয়েছে কাতার সরকার। আহতদের মধ্যে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।
সোমবার (২২ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি-এর প্রধান নির্বাহী সাদ বিন শ্রেদা আল-কাবি জানান, রোববার সন্ধ্যায় রাস লাফান শিল্পনগরীর বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে পরিচালন কার্যক্রম শুরু করার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
মন্ত্রী জানান, নিহত ১৩ জনের সবাই ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। তবে তাদের মধ্যে কতজন ভারতীয় এবং কতজন পাকিস্তানি নাগরিক ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আহত ৬৬ জনের মধ্যে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, তানজানিয়া, গিনি, কেনিয়া, নাইজেরিয়া এবং কাতারের নাগরিক রয়েছেন। গুরুতর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই কাতারের জরুরি সেবা বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কাতারএনার্জি জানিয়েছে, বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে দোহাস্থ ভারতীয় দূতাবাস এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে। দূতাবাস আহতদের সহায়তা এবং নিখোঁজদের সন্ধানে দুটি জরুরি হেল্পলাইন নম্বর ও একটি বিশেষ ই-মেইল সেবা চালু করেছে।
ভারতীয় দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, “রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং নিখোঁজদের নিরাপদে ফিরে আসার জন্য আমরা প্রার্থনা করছি।”
কাতার সরকারের পক্ষ থেকেও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার কোনো কারিগরি ত্রুটি বা অপারেশনাল জটিলতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাস লাফান শিল্পনগরীতে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে এই বিস্ফোরণকে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় আন্তর্জাতিক শ্রমিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।