সেকেন্দার হাজির আমবাগানে পড়ে ছিল রুপালি রাণীর মরদেহ
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় একটি আমবাগান থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৭ জুন) সকালে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের পাঁচগাছি উত্তরপাড়া গ্রামে…
মেলবোর্ন, ৪ এপ্রিল- ইরানের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ ফাইটার পাইলটদের উদ্ধারে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার রাতে বিশেষ বাহিনী ইরানে প্রবেশ করে উদ্ধার তৎপরতা চালায়, তবে ইরানের পাল্টা হামলার মুখে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ইরানে প্রবেশ করে মার্কিন ফাইটার পাইলটদের উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। ইরান নিজেদের আকাশসীমায় ঐ ইউএস এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটিকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর শত্রুপক্ষের গুলিতে ধ্বংস হওয়া প্রথম মার্কিন যুদ্ধবিমান।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিমানের দুইজন ক্রু ইজেকশন করে নিরাপদে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিল। এই পরিস্থিতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মার্কিন ফাইটার পাইলটকে আগে খুঁজে পাওয়ার প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়।
উদ্ধার অভিযানটি পরিচালিত হয় দুইটি মার্কিন মিলিটারি হেলিকপ্টার এবং কম উচ্চতায় থাকা রিফুয়েলিং বিমান ব্যবহার করে। এই সময় উভয় হেলিকপ্টার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে আঘাতপ্রাপ্ত হয়, যার মধ্যে একটি থেকে ইরাকি সীমান্তে ফিরে আসার সময় ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় । তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা নিরাপদে অবতরণে সক্ষম হয়।
শুক্রবার রাত পর্যন্ত নিখোঁজ মার্কিন বিমানচালকের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ইরানি গণমাধ্যমে ইরানের সামরিক বাহিনীর তল্লাশি অভিযানের বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই বিমানচালককে গ্রেফতারের জন্য ৬০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে ইরান কর্তৃপক্ষ। যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনাকে তারা নিজেদের সামরিক সাফল্য হিসেবেও প্রচার করছে। টেলিভিশনে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার উসকানিমূলক বার্তাও প্রচার করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সকালে ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর প্রকাশ পায়। ধ্বংসস্তূপের ছবিতে বিমানের লেজে ‘ইউএস এয়ার ফোর্সেস ইন ইউরোপ’ লেখা দেখা গেছে বলে জানা যায়।

ইরানে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন বিমান। ছবিঃ সংগৃহীত
এই ঘটনা এমন সময় ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালাচ্ছে। তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শাহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ও এসব হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে সেতু, চিকিৎসাকেন্দ্রসহ বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েলে। একই দিনে কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি শোধনাগারেও হামলার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য কুয়েত ও নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।
এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যে শান্তি আলোচনার উদ্যোগও ভেস্তে গেছে। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাবকে ‘বাস্তবসম্মত নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো ইরানের হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পেন্টাগন নিখোঁজ পাইলটকে ঘিরে উদ্বেগে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে একটি গ্যাস স্থাপনায় হামলার ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থাপনাটির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au