আলী খামেনির শেষকৃত্যের সময়সূচি ঘোষণা করল ইরান
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠানের বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করেছে…
মেলবোর্ন, ৮ এপ্রিল- বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে দেশটির অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ আরিফ মোহাম্মদ খান-কে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হলে এটি শুধু বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেই নয়, বরং ভারতীয় উপমহাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসেও একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আরিফ মোহাম্মদ খান একজন দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতা, যিনি চার দশক আগে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন এবং জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে তিনি বিহারের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণত এ ধরনের উচ্চপ্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিকে কূটনৈতিক পদে নিয়োগ দেওয়ার নজির খুবই সীমিত, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশের ক্ষেত্রে।
আরিফ মোহাম্মদ খানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রাবস্থায়। পরবর্তীতে তিনি রাজীব গান্ধী সরকারের সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কংগ্রেসের একজন প্রভাবশালী তরুণ নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। সে সময় তাকে ঘিরে ভবিষ্যতে ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বে ওঠার সম্ভাবনাও দেখা হয়েছিল।
তবে তার রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরে যায় বহুল আলোচিত শাহ বানু মামলার সময়। ওই মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পক্ষে সংসদে জোরালো বক্তব্য রাখেন তিনি। অনেকেই তখন মনে করেছিলেন, এই অবস্থানের মাধ্যমে সরকার পিছিয়ে পড়া মুসলিম নারীদের অধিকারের পক্ষে দাঁড়াবে। কিন্তু বাস্তবে সরকার উল্টো অবস্থান নেয়। মুসলিম ভোটব্যাংক ধরে রাখতে রাজীব গান্ধী সরকার ১৯৮৬ সালে একটি আইন পাস করে, যার মাধ্যমে কার্যত সেই রায়কে অকার্যকর করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আরিফ মোহাম্মদ খান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন এবং কংগ্রেস ত্যাগ করেন। এই পদক্ষেপ সে সময় ভারতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, তার দলত্যাগ ১৯৮৯ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির অন্যতম কারণ ছিল।
পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে একাধিকবার মন্ত্রী হন এবং শেষ পর্যন্ত বিজেপিতে যুক্ত হন। রাজনৈতিক মতাদর্শে তিনি একদিকে যেমন মুসলিম রক্ষণশীলতার সমালোচক, অন্যদিকে ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল অবস্থানের পক্ষেও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তাকে বিহারের গভর্নর পদ থেকে সরানো হলে তা নিয়েও বিস্ময় তৈরি হয়। কারণ, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই তিনি কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলেন বলে মূল্যায়ন করা হয়। এরপর থেকেই তাকে নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়।
ভারতের একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ঢাকায় বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আরিফ মোহাম্মদ খানের নাম বিবেচনায় রয়েছে। বিষয়টি চূড়ান্ত হলে দীর্ঘদিন পর কোনো ক্যারিয়ার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ নতুন হাইকমিশনার নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি নেয়, যা ‘এগ্রেম’ নামে পরিচিত। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ ধরনের বিষয় অত্যন্ত গোপনীয় এবং উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত ছাড়া তা প্রকাশ করা হয় না। তবে ভারত কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আরিফ মোহাম্মদ খানের মুসলিম পরিচয় এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা—এই দুই দিক বিবেচনায় তাকে বাংলাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানোর চিন্তা করা হতে পারে। একই সঙ্গে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সমমর্যাদা দিয়ে পাঠানো হতে পারে, যা এই নিয়োগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে।
যদি এই নিয়োগ বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন বার্তা বহন করবে এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au