মহামন্দার কবলে পড়তে যাচ্ছে বিশ্ব, আইএমএফের সতর্কতা
মেলবোর্ন, ১৫ এপ্রিল- ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল…
মেলবোর্ন, ১৪ এপ্রিল- বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রমনার ঐতিহাসিক বটমূলে প্রভাতের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ আয়োজন। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে স্বাগত জানাতে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট-এর উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান শুরু হয় স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে।
প্রতিবারের মতো এবারও সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মাধ্যমে আয়োজনের সূচনা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে পরিবেশিত হয় ‘এ কী সুগন্ধহিল্লোল বহিল’ এবং ‘তোমার হাতের রাখীখানি বাঁধো আমার দখিন-হাতে’ গান। প্রভাতি এই সঙ্গীতানুষ্ঠানে ভোরের নির্মল পরিবেশে এক অনন্য আবহ তৈরি হয়, যেখানে উপস্থিত দর্শনার্থীরা সুরের মূর্ছনায় নববর্ষকে বরণ করে নেন।
এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা রাখা হয়েছে ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। এই ভাবনাকে সামনে রেখে পুরো আয়োজন সাজানো হয়েছে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মানবিক চেতনার প্রতিফলনে। অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁই, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ এবং জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র-এর গান। পাশাপাশি রয়েছে লোকগানের পরিবেশনাও, যা বাঙালির গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে।
ছায়ানটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের আয়োজনে মোট ২২টি গান পরিবেশিত হবে। এর মধ্যে ৮টি সম্মেলক এবং ১৪টি একক গান রয়েছে। পাশাপাশি দুটি পাঠও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অনুষ্ঠানে, যা সামগ্রিক আয়োজনকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
অনুষ্ঠানে ছায়ানটের শিশু বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ শিল্পী এই প্রভাতি আয়োজনে অংশগ্রহণ করছেন। তাদের সম্মিলিত পরিবেশনায় রমনার বটমূল পরিণত হয়েছে এক বিশাল সাংস্কৃতিক মঞ্চে।
এই আয়োজনটি সরাসরি সম্প্রচার করছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি এবং দীপ্ত টেলিভিশন। ছায়ানটের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজেও লাইভ সম্প্রচার করা হচ্ছে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠান চলবে।
১৯৬৭ সাল থেকে ছায়ানট রমনার বটমূলে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে। স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ের দুঃসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল ভয়ের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে সংগীত ও সংস্কৃতির মাধ্যমে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং জাতিসত্তার পরিচয় তুলে ধরা।
সময়ের পরিক্রমায় এই অনুষ্ঠান শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি দেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির মানুষের জন্য এক অভিন্ন উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও রমনার বটমূলে মানুষের ঢল নেমেছে, যেখানে নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে মিলিত হয়েছে বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি, গান আর উৎসবের আবহ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au