আইএমএফের সতর্কতা,
ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৫ এপ্রিল- ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি, গ্যাস ও খাদ্যপণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে, যা কার্যত একটি নতুন মহামন্দার সূচক।
পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে ১৯৮০ সালের পর চতুর্থবারের মতো বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার মুখোমুখি হতে পারে। সর্বশেষ এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল কোভিড-১৯ মহামারির সময়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইতোমধ্যে ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান এই সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।
আইএমএফ জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রভাবে ইতোমধ্যেই তেলের দাম একাধিকবার ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সালে তা ১২৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬ শতাংশে দাঁড়াতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে হবে।
আইএমএফের মুখ্য অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ার গৌরিনশাস সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নেমে গেলে তার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি পড়বে। এতে বেকারত্ব বাড়বে, খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে অনেক দেশে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
তবে সংস্থাটি আশার কথাও জানিয়েছে। যদি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল-গ্যাসের উৎপাদন ও রপ্তানি স্বাভাবিক হয়, তাহলে মহামন্দার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
আইএমএফ আরও জানিয়েছে, চলমান সংকটে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে। বিশেষ করে ইরান, কাতার ও ইরাকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে, যদিও পরবর্তী বছরে কিছুটা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে তেলের উচ্চমূল্যের কারণে রাশিয়ার অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে লাভবান হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।