অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম ধাপে মেলবোর্নে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৪ মার্চ- ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম ধাপে মেলবোর্নে পৌঁছে তাদের কর্মসূচি শুরু করেছেন। সফরের শুরুতেই তারা শহরের রয়্যাল চিলড্রেনস হাসপাতাল পরিদর্শন করেন, যেখানে অসুস্থ শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে মেলবোর্নে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরেই একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে তারা সরাসরি হাসপাতালে যান। সেখানে হাসপাতালের লবিতে জড়ো হওয়া শিশু রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রিন্স হ্যারি অনেকের সঙ্গে করমর্দন করে খোঁজখবর নেন, আর মেগান শিশুদের সঙ্গে আলিঙ্গন করে সময় কাটান।
হাসপাতালের এক কিশোরী রোগী স্কারলেট ম্যাকগাওয়ান বলেন, প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে কথা বলা ছিল সহজ ও আনন্দদায়ক। তিনি জানান, হ্যারি তার চিকিৎসার খোঁজ নেন এবং নার্সদের প্রশংসা করেন। অন্য এক শিশু রোগী নোভালি মরিস বলেন, মেগান তাকে সাহসী থাকতে উৎসাহ দিয়েছেন এবং তিনি হ্যারিকে ফুল উপহার দিয়েছেন। লিলি ব্যাচেলডার নামের আরেক কিশোরী তাদের স্বাগত জানাতে বিশেষ একটি ব্যানার তৈরি করেছিলেন।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় প্রিন্স হ্যারি ও মেগান বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং শয্যাশায়ী রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন। তারা কিশোর রোগীদের একটি থেরাপি সেশনে অংশ নেন এবং হাসপাতালের থেরাপিউটিক বাগানে সময় কাটান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে মেগান মেলবোর্নের ফুটস্ক্রে এলাকায় অবস্থিত ম্যাকঅলি কমিউনিটি সার্ভিসেস ফর উইমেন–এ যান, যেখানে গৃহহীন ও পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীদের সহায়তা দেওয়া হয়।
তিন দিনের মেলবোর্ন সফরে তারা বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রমে অংশ নেবেন এবং কিছু ব্যক্তিগত বৈঠক ও বিশেষ প্রকল্পে যুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার একটি টিকিটভিত্তিক সম্মেলনেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তারা ক্যানবেরা ও সিডনি সফর করবেন।
বুধবার প্রিন্স হ্যারি অস্ট্রেলিয়ার একটি ক্রীড়া দল ওয়েস্টার্ন বুলডগসের খেলোয়াড়দের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এছাড়া তিনি ক্যানবেরা সফর শেষে আবার মেলবোর্নে ফিরে আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
২০১৮ সালের পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরে এলেন এই দম্পতি। একই সঙ্গে রাজপরিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দূরে সরে যাওয়ার পর এটিই তাদের প্রথম সফর।
তাদের সফর ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন আগ্রহ দেখা গেছে, তেমনি কিছু সমালোচনাও উঠে এসেছে। বিমানযাত্রার সময় এক যাত্রী জানান, তাদের সঙ্গে একই ফ্লাইটে ভ্রমণ করতে পেরে তিনি আনন্দিত এবং তাদের শুভকামনা জানিয়েছেন। আরেকজন যাত্রী বলেন, ব্যক্তিগত বিমানের পরিবর্তে সাধারণ ফ্লাইটে ভ্রমণ করা প্রশংসনীয়।
তবে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের বিরোধীদলীয় নেত্রী জেস উইলসন এই সফর নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে সফরে এসে যদি করদাতাদের অর্থে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়, তা গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে ভিক্টোরিয়া পুলিশ জানিয়েছে, তারা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ সফরগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, তবে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে মন্তব্য করে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারকার সফরটি ২০১৮ সালের তুলনায় অনেকটাই সীমিত পরিসরে রাখা হয়েছে। ব্রিটিশ বিশ্লেষক আফুয়া হ্যাগান বলেন, নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণেই এ সফরে জনসমাগম কম রাখা হয়েছে, যাতে এটি আনুষ্ঠানিক রাজকীয় সফরের মতো না দেখায়।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ