বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন,২৯ এপ্রিল- বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমানকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। খুব শিগগিরই তাঁর চীন সফরের প্রস্তুতির খবরের মধ্যেই ঢাকায় গুঞ্জন ছড়িয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে নির্বাচনের জন্য তাঁর পক্ষে আন্তর্জাতিক মহলের একটি অংশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
সরকারের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্রুত উত্থান ঘটিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া খালিলুর রহমানের পেছনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাবশালী কিছু গোষ্ঠীর সমর্থন রয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মার্কিন দাতব্য কর্মকাণ্ডে যুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিশেষ দূত ঢাকায় এসে একটি শোকবার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি খালিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে জানা গেছে। একই সময়ে ঢাকার কূটনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মহল তাঁর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচনে সমর্থন নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে তাঁর ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন প্রচেষ্টাও চালানো হয়েছে বলে একাধিক সূত্রের দাবি।
এই তৎপরতার পেছনে দীর্ঘমেয়াদি একটি লক্ষ্য রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তাঁকে আরও বড় আন্তর্জাতিক বা রাষ্ট্রীয় ভূমিকায় নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে খালিলুর রহমান ইউরোপের কয়েকটি দেশ সফর করে সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করেছেন। একই উদ্দেশ্যে তিনি ভারতেও সফর করেছেন এবং খুব শিগগিরই চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, তাঁর এই সফরগুলোতে বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক কৌশলগত বিষয়ে আয়োজিত সম্মেলনেও তিনি অংশ নিচ্ছেন। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁকে একটি আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এদিকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক কিছু বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এসব চুক্তির ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে বলেও আলোচনায় এসেছে।
রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতেও খালিলুর রহমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকারের সময় তিনি রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তখন তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল রোহিঙ্গাদের জন্য পরিচয়পত্র নিশ্চিত করা। পরবর্তীতে কিছু দেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার উদ্যোগেও তিনি ভূমিকা রাখেন বলে জানা গেছে।
২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়। আন্তর্জাতিক মহল বারবার তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের কথা বললেও এখনো তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।
সামরিক ও কৌশলগত বিষয়েও খালিলুর রহমানের সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তাঁর দায়িত্বকালে সশস্ত্র বাহিনীর কাঠামো ও নেতৃত্ব নিয়ে কিছু পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তবে এসব উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে তাঁর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির পর প্রতিরক্ষা ক্রয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরকারে খালিলুর রহমানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মুখ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। তাঁকে ঘিরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পক্ষের আগ্রহ বাংলাদেশের রাজনীতি ও কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।