রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় , ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৯ এপ্রিল-পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগের রাত থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকায় অত্যাচার চালাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের দিন ভবানীপুরে বিভিন্ন বুথ পরিদর্শনের সময় মোবাইল ফোনে কিছু ছবি দেখিয়ে তিনি এসব অভিযোগ সামনে আনেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের এক কাউন্সিলরের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী হামলা চালিয়েছে। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, গত রাত আনুমানিক ২টার দিকে স্থানীয় পুলিশের উপস্থিতি ছাড়াই সিআরপিএফ বাহিনী ওই বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তখন বাড়িতে কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন না, তবে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান ছিল। সেই সময় তাদের মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া ভাঙড় এলাকায় পুলিশের বিরুদ্ধেও মারধরের অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের এক কর্মীকে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, নির্বাচনের সময় এমন আচরণ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কিছু প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ ভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষায়, “এভাবে অত্যাচার চললে মানুষ কীভাবে ভোট দেবে?” তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নেওয়ার জন্য জোর করে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি তৃণমূল কর্মীদের মনোবল নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, তাঁদের কর্মীরা প্রয়োজনে প্রাণ দিতে প্রস্তুত, কিন্তু নিজেদের অবস্থান থেকে সরবে না।
এদিন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন স্থান থেকে আনা কিছু পর্যবেক্ষক এবং কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে স্থানীয় থানাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সারা রাত তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং লক্ষ্য করেছেন যে পর্যবেক্ষকেরা স্থানীয় থানায় গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তারের জন্য চাপ দিচ্ছেন।