🟥 বাংলায় ইতিহাসের পথে বিজেপি, বড় পরাজয়ের মুখে তৃণমূল
মেলবোর্ন, ৪ মে: বাংলায় প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে এগিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি। অন্যদিকে টানা ১৫ বছরের শাসনের পর বড় ধাক্কার মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৬…
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ও অভিবাসীদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় অবদানকে স্বীকৃতি দিতে ২০২৬ সালের পল ও ডেইজি সোরোস ফেলোশিপে মনোনীত হয়েছেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ছয়জন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। এই ফেলোশিপের আওতায় নির্বাচিতরা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য সর্বোচ্চ ৯০ হাজার ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন, যা টিউশন ফি ও ভাতার জন্য ব্যয় করা যাবে।
এ বছর ফেলোশিপপ্রাপ্ত এমআইটির ছয়জন হলেন ডেনিস কর্দোভা ক্যারিজালেস, রিয়া দাস, রোনাক দেশাই, স্টেসি গডফ্রি-ইগওয়ে, আর্যা রাও এবং আনন্দন সদাগোপান। এছাড়া ফেলোশিপপ্রাপ্ত অবিনাশ বাদালি চলতি শরৎকাল থেকে এমআইটিতে ঘনীভূত পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি শুরু করবেন।
ডেনিস কর্দোভা ক্যারিজালেস বর্তমানে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে গবেষণা করছেন। অধ্যাপক মিংদা লির তত্ত্বাবধানে তিনি কোয়ান্টাম উপকরণ তৈরি ও বিশ্লেষণ নিয়ে কাজ করছেন, যার লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিকে আরও শক্তি-সাশ্রয়ী ও টেকসই করা। মেক্সিকান বংশোদ্ভূত এই গবেষক টেক্সাসের হিউস্টনে বড় হয়েছেন এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি মার্কিন পদার্থবিজ্ঞান সমিতির লেরয় অ্যাপকির পুরস্কার অর্জন করেছেন। গবেষণার পাশাপাশি তিনি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়েও কাজ করেছেন এবং প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সহায়তায় একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন।
রিয়া দাস এমআইটির তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের পিএইচডি শিক্ষার্থী। ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে নিউ হ্যাম্পশায়ারে বড় হওয়া রিয়া পরিচয় ও আত্মপরিচয়ের সংকট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এক পর্যায়ে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি থেকে বিরতি নেন। পরে নিউইয়র্কে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করে তিনি অর্থনৈতিক ও আবাসন বৈষম্য নিয়ে গবেষণা করেন। বর্তমানে তিনি মানব চিন্তার পরিবর্তন ও শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নে গবেষণা করছেন এবং ভবিষ্যতে অধ্যাপক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।
রোনাক দেশাই হার্ভার্ড ও এমআইটির যৌথ এমডি-পিএইচডি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী। ভারতের গুজরাট থেকে আসা অভিবাসী পরিবারের সন্তান দেশাই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রসায়ন ও জৈবরসায়নে স্নাতক সম্পন্ন করে সংক্রামক রোগের চিকিৎসায় নতুন অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ভাবনে গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের কাজ করছেন।
স্টেসি গডফ্রি-ইগওয়ে এমআইটি থেকে যন্ত্র প্রকৌশলে স্নাতক শেষ করে বর্তমানে কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল ও জননীতি বিষয়ে পিএইচডি করছেন। নাইজেরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে টেক্সাসে বড় হওয়া স্টেসি সামাজিক বৈষম্য নিয়ে সচেতন হয়ে ওঠেন ছোটবেলা থেকেই। বর্তমানে তিনি তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাবে গৃহস্থালি বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর গবেষণা করছেন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়সঙ্গত জ্বালানি সমাধান নিয়ে কাজ করছেন।
আর্যা রাও হার্ভার্ড ও এমআইটির যৌথ এমডি-পিএইচডি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী। জীবরসায়ন ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে চিকিৎসা পদ্ধতি উন্নয়নে কাজ করছেন। তিনি চিকিৎসা প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগের আগে পরীক্ষামূলক মূল্যায়নের জন্য বিভিন্ন টুল তৈরি করছেন। তাঁর গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি সার্জন ও বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করতে চান।
আনন্দন সদাগোপান এমআইটি থেকে রসায়ন ও জীববিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন। ভারতের চেন্নাই থেকে আসা অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে তিনি ছোটবেলা থেকেই রসায়ন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করেন। এমআইটিতে পড়াকালীন তিনি ক্যানসার গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং তাঁর কাজ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনে ঝুঁকি কমানোর উপায় নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী।
পল ও ডেইজি সোরোস ফেলোশিপ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে প্রতিষ্ঠিত একটি মর্যাদাপূর্ণ কর্মসূচি। প্রতি বছর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এই ফেলোশিপ প্রদান করা হয়, যা তাদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করে।
সূত্রঃ news.mit.edu
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au