এক বছর পর আবার চলল এক্সপিটি, ঐতিহ্যবাহী ‘ক্যান্ডি স্ট্রাইপ’ রঙে ফিরল আইকনিক ট্রেন
মেলবোর্ন, ২ মে- বড় ধরনের সংস্কার শেষে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের এক্সপ্রেস প্যাসেঞ্জার ট্রেন (এক্সপিটি) আবারও সিডনি থেকে গ্রাফটন রুটে যাত্রা শুরু করেছে। নিউ সাউথ…
মেলবোর্ন, ২ মে- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। তবে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নতুন করে সংলাপ শুরু করতে হলে ওয়াশিংটনকে প্রথমেই ‘অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ও হুমকিমূলক বক্তব্য’ বন্ধ করতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার তুরস্ক সফরের সময় আঞ্চলিক বৈঠকে অংশ নিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সংলাপ নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন। ওই বৈঠকে তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, মিসর, ইরাক এবং আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আরাগচি বলেন, ইরান কখনোই এই যুদ্ধ শুরু করেনি এবং যুদ্ধবিরতি ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার হামলা চালায়, তবে তা মোকাবিলায় ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান চায় চলমান মতপার্থক্যগুলো সামরিক পথে নয়, সংলাপের মাধ্যমে সমাধান হোক। একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান আবারও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তবে তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আগ্রাসী ভাষা ও চাপ প্রয়োগের কৌশল থেকে সরে আসতে হবে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। সেই উত্তেজনার জের ধরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। টানা প্রায় ৪০ দিন সংঘাত চলার পর গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
এরপর শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী ওই আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এবং চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
পরবর্তীতে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা সংলাপের ভিত্তি হিসেবে তিন স্তরের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর নতুন করে পাকিস্তানের মাধ্যমে আরেকটি প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছে তেহরান বলে জানা গেছে, যদিও সেই প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, উভয় পক্ষই একদিকে সামরিক প্রস্তুতি ধরে রাখলেও অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। তবে পারস্পরিক অবিশ্বাস, শর্ত আর পাল্টা শর্তের কারণে আলোচনার পথ এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই টানাপোড়েন শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও পড়ছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au