কংগ্রেস এড়িয়ে ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি, ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ মে- মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর কাছে প্রায় ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই অস্ত্র চুক্তির আওতায় ইসরায়েল, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর কাছে বিভিন্ন ধরনের উন্নত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, মিত্র দেশগুলোর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা প্রয়োজন বিবেচনায় কংগ্রেসের বাধ্যতামূলক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
চুক্তির আওতায় কাতারের কাছে ৪.০১ বিলিয়ন ডলারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ সেবা এবং প্রায় ৯৯২ মিলিয়ন ডলারের অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেমস (এপিকেডব্লিউএস) সরবরাহ করা হবে। কুয়েত পাবে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলারের সমন্বিত যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। একই ধরনের এপিকেডব্লিউএস ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও দেওয়া হবে।
এই অস্ত্র বিক্রিতে প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে বিএই সিস্টেমস, আরটিএক্স করপোরেশন, লকহেড মার্টিন এবং নর্থরপ গ্রুমান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত এমন সময় নেওয়া হলো যখন ইরান-কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাতের পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পর্ক নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনাও রয়েছে। তাদের অভিযোগ, এসব দেশে ভিন্নমতাবলম্বী, সাংবাদিক ও সংখ্যালঘুদের ওপর দমন-পীড়ন চলছে। যদিও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘ-এর তদন্তে সেখানে মানবিক সংকট ও ব্যাপক প্রাণহানির কথা তুলে ধরা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সুত্রঃ রয়টার্স