এক বছর পর আবার চলল এক্সপিটি, ঐতিহ্যবাহী ‘ক্যান্ডি স্ট্রাইপ’ রঙে ফিরল আইকনিক ট্রেন
মেলবোর্ন, ২ মে- বড় ধরনের সংস্কার শেষে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের এক্সপ্রেস প্যাসেঞ্জার ট্রেন (এক্সপিটি) আবারও সিডনি থেকে গ্রাফটন রুটে যাত্রা শুরু করেছে। নিউ সাউথ…
মেলবোর্ন, ২ মে- বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বদলে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। তার মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত পরিবর্তনের কারণে আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোর আরও ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করা জরুরি হয়ে উঠেছে বলেও তিনি মনে করেন।
অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্ব রাজনীতিতে “ভিন্ন ভূমিকা” পালন করছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন রেডিও ন্যাশনালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন অর্থনৈতিক নীতিতে আগের তুলনায় অনেক বেশি সুরক্ষাবাদী অবস্থান নিয়েছে এবং শুল্ক আরোপের মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা তাদের ঐতিহ্যগত মুক্তবাজার নীতির থেকে ভিন্ন।
তিনি আরও বলেন, ইরান নিয়ে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ না করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন।
আলবানিজ বলেন, এই পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব এখন নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ।
তিনি বলেন, “এর মানে এই নয় যে আমরা অন্যদের সঙ্গে কাজ করছি না।” তার ভাষায়, অস্ট্রেলিয়া এখন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল না থেকে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন মধ্যম শক্তিধর দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।
মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, কানাডা, জাপান, ফ্রান্সসহ দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করা এখন সময়ের দাবি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বড় শক্তিগুলোর বাইরে থাকা দেশগুলোকে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখবে, তবে একই সঙ্গে স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থানও ধরে রাখবে।
দেশীয় রাজনীতিতে বিভাজন ও পপুলিজম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আলবানিজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম মানুষকে আরও চরম অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে, যার ফলে রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ছে।
তিনি বলেন, মানুষ এখন অতীতকে রোমান্টিকভাবে দেখছে এবং রাজনৈতিকভাবে আরও চরমপন্থার দিকে ঝুঁকছে।
অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে ওয়েলকাম টু কান্ট্রি অনুষ্ঠানে কিছু ক্ষেত্রে বিক্ষোভ ও অবমাননাকর আচরণ নিয়েও তিনি উদ্বেগ জানান। তার মতে, এসব অনুষ্ঠান শালীনতা ও সম্মানের প্রতীক, এবং এগুলোকে অবজ্ঞা করা অস্ট্রেলিয়ান মূল্যবোধের পরিপন্থী।
আলবানিজ আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে অনেক পরিবর্তন এসেছে, যেমন একসময় লেবার পার্টির মধ্যেও বর্ণবাদী নীতির অস্তিত্ব ছিল, তবে সময়ের সঙ্গে দেশ এগিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এগোতে থাকবে।
ভয়েস টু পার্লামেন্ট গণভোট ব্যর্থ হওয়ার পর বিতর্ক বৃদ্ধি পেলেও তিনি বলেন, আদিবাসী ইস্যু নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকা জরুরি।
শেষে তিনি জানান, তার দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময় তিনি জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সংহতি জোরদারে কাজ করতে চান।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au