শেখ হাসিনার সম্পদ পুনঃযাচাইয়ে তথ্য চেয়েছে দুদক
শ্যামল সান্যাল, ঢাকা মেলবোর্ন, ৪ মে- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী পুনঃযাচাইওজ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন…
মেলবোর্ন, ৪ মে- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী শক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে ভারতীয় জনতা পার্টি-এর অগ্রগতির পেছনে বিশ্লেষকরা ‘৫ ম’ ফ্যাক্টরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুসলিম ভোট, মহিলা ভোটার, অভিবাসী (মাইগ্র্যান্ট) ভোটার, মতুয়া সম্প্রদায় এবং বিজেপির শক্তিশালী নির্বাচনী যন্ত্র বা মেশিনারি-এই পাঁচটি উপাদান রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলেছে।
একসময় ‘মা, মাটি, মানুষ’ স্লোগানে ভর করে টানা সাফল্য পাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এবার সেই ভিত্তি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের একটি অংশে ভাঙন, সংখ্যালঘু ভোটের আংশিক পুনর্বিন্যাস এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের সমর্থনের বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়া এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলার রাজনীতিতে ৫ ‘ম’
মহিলা ভোটার
দীর্ঘদিন ধরেই নারী ভোটাররা তৃণমূলের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। গত এক দশকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নারীদের জন্য একাধিক কল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছেন যেমন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নগদ সহায়তা প্রকল্প এবং ‘কন্যাশ্রী’।তবে ২০২৬ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপিও নারীদের কেন্দ্র করে নানা প্রতিশ্রুতি ও প্রকল্প নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালায়। আরজি কর মেডিকেল কলেজের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাও বড় ইস্যু হয়ে ওঠে, যেখানে নারী সুরক্ষা নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করে বিজেপি। এমনকি পানিহাটি আসন থেকে ওই ঘটনার শিকার নারীর মাকেও প্রার্থী করা হয়।
মুসলিম ভোট
ঐতিহাসিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২৭ শতাংশ মুসলিম ভোটার ক্ষমতার সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০২১ সালে মুসলিম-প্রধান আসনগুলোতে তৃণমূলের বড় জয়ের পেছনে সংখ্যালঘু ভোটের একত্রীকরণ বড় কারণ ছিল।
কিন্তু ২০২৬ সালে মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে ভোটের ধরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। উন্নয়ন, ভোটার তালিকা ও প্রশাসন নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন জানাচ্ছে। তৃণমূলের পাশাপাশি কংগ্রেস পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা করছে, আর অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন সম্ভাব্য ‘ভোট কাটার’ শক্তি হিসেবে উঠে আসছে।
অভিবাসী ভোটার
এই নির্বাচনে অভিবাসী ভোটাররা ছিল অনিশ্চিত একটি বড় ফ্যাক্টর। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় বহু পরিযায়ী শ্রমিক রাজ্যে ফিরে এসেছেন। ফলে ভোটের ফলাফল আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
মতুয়া সম্প্রদায়
পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১৭ শতাংশ তফসিলি জাতিভুক্ত মতুয়া সম্প্রদায় বিজেপির উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে। এই সম্প্রদায়ের সমর্থন এবারের নির্বাচনে নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে।
বিজেপির নির্বাচনী যন্ত্র
এবারের নির্বাচনে বিজেপি কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্বের সমন্বয়, বুথ স্তরের সংগঠন, ডিজিটাল প্রচার এবং সংগঠন বিস্তারের উপর জোর দিয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর নেতৃত্বে বিজেপি সংগঠন শক্তিশালী করা, বুথভিত্তিক নেটওয়ার্ক বিস্তার এবং ডিজিটাল প্রচারণায় জোর দিয়ে এবারের নির্বাচনে কৌশলগতভাবে এগিয়েছে।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন, অভিবাসী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন অঞ্চলে ভোটের ধরণে পরিবর্তনও ফলাফলে প্রভাব ফেলছে। সব মিলিয়ে ‘৫ ম’ ফ্যাক্টর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যা চূড়ান্ত ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au