বিরল হান্টা ভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
মেলবোর্ন, ১২ মে- বিরল ও প্রাণঘাতী হান্টা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে অবস্থান করা একটি প্রমোদতরীতে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবে…
মেলবোর্ন, ১২ মে- মার্কিন বৈদেশিক সহায়তা স্থগিত হওয়ার পর বাংলাদেশের উন্নয়ন ও এনজিও খাতে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত শতাধিক প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, শরণার্থী সহায়তা ও গবেষণামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর যোগাযোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক এ কে এম তারিফুল ইসলাম খান এক বিবৃতিতে জানান, মার্কিন সরকারের নির্দেশনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত সব প্রকল্প ও গবেষণা কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
এই ঘোষণার পরপরই প্রতিষ্ঠানটিতে এক হাজারের বেশি কর্মীর চাকরি চলে যায়। যাদের বড় একটি অংশ জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি বাংলাদেশের উন্নয়ন খাতে মার্কিন সহায়তা বন্ধের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের একটিতে পরিণত হয়েছে।
এর আগে ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় সব ধরনের মার্কিন বৈদেশিক সহায়তা সাময়িকভাবে স্থগিত করে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। পরে ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইডের কার্যালয় সব বাস্তবায়নকারী অংশীদারকে অবিলম্বে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়।
পরিস্থিতি দ্রুত আরও জটিল হয়ে ওঠে। মার্চ মাসের মধ্যে ইউএসএইডের বৈশ্বিক কর্মসূচির প্রায় ৮৩ শতাংশ বাতিল করা হয়। এরপর ১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএসএইডের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়ে সরাসরি ৫৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের শতাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে। বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাতারাতি চাকরি হারান ২০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী। স্থবির হয়ে পড়ে বহু স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি কর্মসূচি, নারী উন্নয়ন প্রকল্প এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী সহায়তা কার্যক্রম।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় দেশের শীর্ষ উন্নয়ন সংস্থাগুলো। ব্র্যাক, আইসিডিডিআর,বি, কেয়ার বাংলাদেশসহ ইউএসএইড অর্থায়নে পরিচালিত বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বড় সংকটে পড়ে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এনজিও ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্র্যাকের মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১২টিই বাতিল হয়েছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর একটি। মার্কিন সহায়তা বন্ধ হওয়ায় তাদের জীবন আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।”
উন্নয়ন বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে স্থানীয় ছোট ও মাঝারি এনজিওগুলো। যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করে স্থানীয় পর্যায়ে আস্থা তৈরি করেছিল, এখন তারা সীমিত অনুদানের জন্য বড় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে বাধ্য হচ্ছে।
উন্নয়নকর্মী ও হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের সাবেক প্রোগ্রাম লিড আমিন উদ্দিন বলেন, ইউএসএইড অর্থায়নে পরিচালিত ৮০ মিলিয়ন ডলারের বৃহৎ প্রকল্প ‘হৃত্রা’ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পুরো উন্নয়ন খাতে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের উন্নয়ন কাঠামোর বড় দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিদেশি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে উন্নয়ন খাত এখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au