হরমুজ প্রণালি এখন যুদ্ধাঞ্চলে পরিণত হয়েছে : ইরান
মেলবোর্ন, ১২ মে- মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাঞ্চল হিসেবে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখা। আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সামরিক…
মেলবোর্ন, ১২ মে- চট্টগ্রামে হামের পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই আবার অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুরা, এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিছু ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দফায় অসুস্থতা এতটাই জটিল হয়ে উঠছে যে তা প্রাণঘাতীও হচ্ছে।
চট্টগ্রামের আট মাস বয়সী শিশু আইয়ানের ঘটনা এর একটি করুণ উদাহরণ। হঠাৎ জ্বর ও কাশি নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল সে। একদিনের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ দেওয়া হয়, কিন্তু অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে এক সপ্তাহ চিকিৎসার পর সুস্থ ঘোষণা করে বাড়ি পাঠানো হয়। কিন্তু বাড়ি ফেরার মাত্র তিন দিনের মধ্যে তার শরীরে আবার নিউমোনিয়া ও জটিল উপসর্গ দেখা দেয়। দ্রুত আবার হাসপাতালে নিতে হয় তাকে। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং দুদিনের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
আইয়ানের মতো একই ধরনের পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে আরও অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত অন্তত ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনকে আইসিইউ এবং এইচডিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তারা প্রথমে হাম থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও কয়েক দিনের মধ্যেই আবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সোমবার একদিনেই ৫৭ জন শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৭৯ জনে। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৪৯ জন শিশু। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন শিশুকে আইসিইউ ও এইচডিইউতে স্থানান্তর করতে হচ্ছে, ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম থেকে সুস্থ হওয়ার পর অনেক শিশুর শরীর পুরোপুরি শক্তি ফিরে পাওয়ার আগেই তাদের বাড়ি পাঠানো হচ্ছে অথবা পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসা ঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এর ফলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং তীব্র পুষ্টিহীনতার মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম থেকে সেরে ওঠার পর শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে অন্তত এক থেকে দেড় মাস সময় লাগে। এই সময়ের মধ্যে সঠিক যত্ন না নিলে শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজেই মারাত্মক সংক্রমণে আক্রান্ত হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ মুসা বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি সুস্থ হওয়ার পর আবার অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও বাড়ছে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দিচ্ছে, যাদের আইসিইউতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তার মতে, ১০ মাসের কম বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তাদের একটি অংশ টিকা নেয়নি।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ফাহিম হাসান রেজা বলেন, হাম শিশুদের শরীরকে দুর্বল করে দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে। ফলে সাধারণ ভাইরাস সংক্রমণও তাদের জন্য ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এই কারণেই অনেক শিশু সুস্থ হওয়ার পর আবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাম থেকে সুস্থ হওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। শিশুদের পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে ভিটামিন ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অন্তত দেড় মাস চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, অবহেলা করলে শিশুর জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মনে করছেন, টিকা গ্রহণ, পর্যাপ্ত চিকিৎসা এবং পরবর্তী যত্ন নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au